ছাদ বাগানের রোগ ও বালাই দমন - ছাদ বাগানের পরিচর্যা

আপনার শহরের যান্ত্রিক জীবনের মাঝে একটুখানি প্রশান্তি এনে দিতে পারে ছাদ বাগান। যেভাবে গাছপালা কেটে মন উজাড় করে বড় বড় দালানকোঠা বানানো হচ্ছে তাতে সবুজের দেখা পাওয়া ভার। অন্যান্য দেশের মতো চাইলে আপনিও আপনার বাড়ির ছাদে গড়ে তুলতে পারেন ছোট্ট একটি সবুজের বাগান।

ছাদ বাগানের রোগ ও বালাই দমন - ছাদ বাগানের পরিচর্যা
হাত বাগান বাসা বাড়িতে তুলনামূলক শীতল রাখে এবং পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে সহায়তা করে। তাছাড়া জীববৈচিত্র রক্ষায় গাছপালার ভূমিকা অপরিহার্য। ছাদ বাগান করার জন্য আপনাকে অবশ্যই ছাদ বাগানের পরিকল্পনা করতে হবে, ছাদ বাগান করার পদ্ধতি, মাটি তৈরি, ছাদ বাগানের পরিচর্যা ও বালাই দমন, কি কি গাছ লাগাবেন ইত্যাদি বিষয়ে জানতে হবে। আজকের এই প্রবন্ধে ছাদ বাগানের পরিচর্যা ও বালাইদমন এবং ছাদ বাগানে কি কি গাছ লাগাবেন এ বিষয়ে আলোচনা করব।

সূচিপত্রঃ- ছাদ বাগানের রোগ ও বালাই দমন - ছাদ বাগানের পরিচর্যা

ভুমিকাঃ

ছাদ বাগান তৈরির জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। ছাদ বাগানকে পরিবারের সদস্যদের দৈনিক হালকা শ্রম ও বিনোদনের উৎস হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। যার ফলে পরিবারের নতুন সদস্যরা ফুল, ফল ও গাছপালা সম্পর্কে জানতে পারবে এবং নিজ হাতে পরিচর্যা করার মাধ্যমে গাছপালা ও প্রকৃতির প্রতি তাদের ভালোবাসা জন্মাবে।
বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হওয়া ছাদ বাগান বা অন্য বাগান দেখার পরে অনেকেই ছাদ বাগান করতে আগ্রহী হচ্ছেন। শুধুমাত্র নার্সারি থেকে গাছ নিয়ে এসে, টেলিভিশন, youtube বা বই পুস্তক পড়ে এমনকি মেলা থেকে গাছ কিনে এনে বাগান করা খুব একটা যুক্তিযুক্ত নয়। বাগান করার জন্য অবশ্যই প্রাথমিক নিয়ম কানুন মেনে করাই উত্তম।

ছাদ বাগানে কি কি গাছ লাগাবেনঃ

সব চারা ও গাছ ছাদ বাগানের জন্য উপযুক্ত না। যে গাছ আকারে ছোট ফুল ফল বেশি ধরে সেজন্য হাইব্রিড জাতের গাছ বা কলমের গাছ লাগাতে পারেন। নিম্নে কিছু ফুল, ফল ও শাক সবজির গাছের না উল্লেখ করা হলো।
যেমন-
*আম-বারিআম-৩ (আম্রপালি), বাউআম-২ (সিন্দুরী); মল্লিকা জাতের আম।
* পেয়ারা-বারি পেয়ারা-২, ইপসা পেয়ারা-১;
* কুল-বাউকুল-১, ইপসা কুল-১ (আপেল কুল), থাই কুল-২ ;
* লেবু-বারি লেবু -২ ও ৩, বাউ কাগজি লেবু-১;
* আমড়া-বারি আমড়া-১, বাউ আমড়া-১;
* করমচা-থাই করমচা;
* ডালিম (দেশী উন্নত);
* কমলা ও মাল্টা-বারি কমলা-১, বারি মাল্টা ১;
* জামরুল-বাউ জামরুল-১ (নাশপাতি জামরুল), বাউ জামরুল-২ (আপেল জামরুল) এসব।
* সবজি-লালশাক, পালংশাক, মূলাশাক, ডাঁটাশাক, কলমিশাক, পুঁইশাক, লেটুস, বেগুন, টমেটো, মরিচ, লাউ, শিম এসব।
এছাড়াও পেঁপে, জলপাই, শরিফা, আতা, এমনকি কলা গাছও লাগানো যাবে। কলমের জলপাই,থাইল্যান্ডের মিষ্টি জলপাই, কলমের শরিফা, কলমের কদবেল, স্ট্রবেরি, নারিকেলকুল, লিচু, আঙ্গুর, ফলসা, খুদে জাম, আঁশফল, জোড় কলমের কামরাঙা, এমনকি ক্যারালা ড্রফ প্রজাতির নারিকেলে চারাও লাগাতে পারেন।

রোগ ও বালাই দমনঃ

ছাদ বাগানের রোগ ও বালাই দমনের ক্ষেত্রে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করায় উত্তম। ছাদ বাগান গুলো আকারে ছোট হওয়ায় খুব সহজেই জৈবিক পদ্ধতিতে শতভাগ রোগ বালাই দমন করা যেতে পারে। দমন করা সম্ভব না হলে কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিয়ে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন। চারা বা গাছগুলো প্রতিনিয়তই পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
কোন গাছ রোগ আক্রান্ত বা ডাল মারা গেলে সেগুলো কেটে ফেলতে হবে। বাগানের ক্ষেত্রে পাখির উপদ্রব একটি স্বাভাবিক ঘটনা। থেকে বাঁচার জন্য উঁচু করে তারের জাল কিংবা নেট দিয়ে পুরো ছাদ কিংবা গাছ ঢেকে দিতে পারেন। বছরে একবার অন্তত টবের মাটি পরিবর্তন করুন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন গাছ যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

ছাদ বাগানের পরিচর্যাঃ

ছাদ বাগান যেহেতু ছোট আকারের হয় সেহেতু অতিরিক্ত যত্ন নিশ্চিত করতে হবে এবং ছাদ বাগানের পরিচর্যার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে সার প্রয়োগ ও রোগ বালাই দমনের প্রতি বিশেষ সর্তকতা প্রয়োজন। সার বা বিষের মাত্রা বেশি হলে গাছ মারা যেতে পারে।

ছাদে বাগানের কিছু জরুরি টিপসঃ

  • লম্বা গাছকে ছোট গাছের পিছনে রাখতে হবে।
  • টবে বা ফ্রেমে খৈল দেয়া যাবে না, এতে পিঁপড়ার উপদ্রব বাড়তে পারে।
  • বাজার থেকে কেনা প্যাকেটজাত কম্পোস্ট সার ব্যবহার করলে ভালো।
  • বছরে অন্তত একবার মাটি পরিবর্তন করুন।
  • ছাদে বাগানের জন্য মিশ্র সার, গুঁটি ইউরিয়া, খৈল, হাড়ের গুঁড়া (পচিয়ে) ব্যবহার করা ভালো।
  • পোকামাকড় দমনের জন্য গাছের গোড়ায় চুনের পানি ব্যবহার করতে পারেন।

উপসংহারঃ

গাছপালার সবুজ রং কার না ভালো লাগে? বিভিন্ন প্রকার সবুজের সমরহ দেখে আমরা প্রফুল্ল হয়ে উঠি।বাগানে একটা আনন্দে ও ভালো লাগার বিষয়। ছাদ বাগানে ফুল, ফল ও সবজি চাষের মাধ্যমে শুধু আনন্দই পাওয়া যায় না পরিবারের পুষ্টির ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Timeline Treasures নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url