রম কাকে বলে-রম এর বৈশিষ্ঠ্য-RAM ও ROM এর মধ্যে পার্থক্য
ROM হলো এক ধরণের অ-উদ্বায়ী মেমোরি যা কম্পিউটার সিস্টেমের স্থায়ী তথ্য এবং
প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী সংরক্ষণ করতে ব্যবহৃত হয়। ROM মূলত ফার্মওয়্যার এবং
বুটিং প্রোগ্রাম সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়। RAM এবং ROM-এর মধ্যে প্রধান
পার্থক্য হলো RAM অস্থায়ী এবং দ্রুত, যখন ROM স্থায়ী এবং স্থির সিস্টেম
নির্দেশাবলীর জন্য ব্যবহৃত হয়।
ইন্ডেক্সঃ- রম কাকে বলে-রম এর বৈশিষ্ঠ্য-RAM ও ROM এর মধ্যে পার্থক্য
রম কাকে বলে
Read Only Memory এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো ROM। এটি একটি স্থায়ী প্রধান মেমোরি। রমের
স্মৃতিতে রক্ষিত তথ্যসমূহ কেবল ব্যবহার করা যায় কিন্তু সংযোজন, সংশোধন বা
পরিবর্তন করা যায় না। তাই একে Read Only Memory (ROM) বলা হয়। কম্পিউটারে
নিয়ন্ত্রণমূলক কাজের জন্য মাইক্রোপ্রসেসরে বিশেষ ধরনের মেমোরির ব্যবস্থা রয়েছে।
তাকে রম বলে। কোনো কম্পিউটার চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম অর্থাৎ চালু
করার নির্দেশনাবলি রম স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। এক্ষেত্রে এসব নির্দেশ
যতবার প্রয়োজন রম চিপ থেকে ততবার পাঠ করা যায়; কিন্তু এতে নির্দেশ প্রবেশ করানো
যায় না। তবে বর্তমানে এটা মুছে পুনঃপুনঃ প্রোগ্রাম করা যায় এমন রমও আছে। বিদ্যুৎ
সরবরাহ বন্ধ হলে রমে রক্ষিত তথ্যদি মুছে যায় না। এখানেই রম-এর সাথে র্যামের মূল
পার্থক্য। অর্থাৎ, রম হলো এক প্রকার ‘Non-Volatile Memory’ কিন্তু র্যাম হলো
‘Volitile Memory’।
রম এর বৈশিষ্ঠ্য
- রম একটি স্থায়ী প্রকৃতির প্রধান মেমোরি। অর্থাৎ কম্পিউটারের পাওয়ার বন্ধ বা বিদ্যুৎ চলে গেলে রমে সংরক্ষিত ডাটা বা তথ্যসমূহ হারায় না ।
- রমের স্মৃতিতে রক্ষিত তথ্যসমূহ কেবল ব্যবহার করা যায় কিন্তু সংযোজন, সংশোধন বা পরিবর্তন করা যায় না।
- রমে ম্যানুফ্যাকচারার কর্তৃক প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা থাকে।
- কম্পিউটার চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রোগ্রাম রম স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকে। তবে এটা মুছে পুনঃপুনঃ প্রোগ্রাম করা যায় এমন রম ও আছে।
- রোমের আকার বা ক্ষমতার উপর কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা নির্ভর করে না।
রমের প্রকারভেদ
১) এমরম (MROM- Mask Read Only Memory)২) পিরম বা প্রম (PROM - Programmable Read Only Memory)
৩) ইপ্রম (EPROM - Erasable Programmable Read Only Memory)
৪) ইইলম (EEPROM-Electrically Erasable PROM)
৫) ইএপ্রম (EAPROM-Electrically Alterable PROM)
এমরোম (MROM)
MROM হলো Mask Read Only Memory এর সংক্ষিপ্ত রুপ। MROM একটি বিশেষ ধরন Read Only
Memory। এই মেমোরিতে তথ্য উৎপাদনের সময় স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়। একবার তথ্য
সংরক্ষণ করা হলে ব্যবহারকারী বা প্রোগ্রামার পরবর্তীতে তা পরিবর্তন বা মুছে ফেলতে
পারে না। MROM-এ তথ্য সংরক্ষণের জন্য মাস্ক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যার কারণে
এর নাম মাস্ক রম। এটি একটি নন-ভোলাটাইল মেমোরি, অর্থাৎ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলেও
এতে সংরক্ষিত তথ্য নষ্ট হয় না। এমরোম সাধারণত ফার্মওয়্যার, বুট প্রোগ্রাম এবং
এমবেডেড সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়। বৃহৎ পরিমাণে উৎপাদনের ক্ষেত্রে এর খরচ
তুলনামূলকভাবে কম হলেও এর প্রধান অসুবিধা হলো একবার তথ্য সংরক্ষণ করা হলে তা আর
পরিবর্তন করা যায় না।
প্রম (PROM)
Programmable Read Only Memory-কে PROM বলা হয়। সাধারণত রমের অসুবিধা হলো
ব্যবহারকারী এতে নিজের সুবিধামতো প্রোগ্রাম পরিবর্তন করতে বা নতুন করে প্রোগ্রাম
লিখতে পারে না। কিন্তু বাজারে যে সমস্ত প্রোগ্রাম সুবিন্যস্ত রম পাওয়া যায়, তাতে
চাহিদামতো সকল কাজ সম্পাদন করা যায় না। এসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় PROM।
এক্ষেত্রে ব্যবহারকারী তার নিজস্ব প্রোগ্রামকে মাইক্রোপ্রোগ্রামে রূপান্তরিত করে
PROM-এ সংরক্ষণ করতে পারে। PFROM-কে একবার প্রোগ্রাম করা হলে এতে সংরক্ষিত
তথ্য-উপাত্ত পরে আর পরিবর্তন করা যায় না। অর্থাৎ প্রম তখন রমে পরিণত হয় এবং এতে
সংরক্ষিত তথ্য শুধু Read করা যায়, Write করা যায় না। ROM-এর ন্যায় PROM-ও
'Non-Volatile Memory' তথা 'অ-উদ্বায়ী', অর্থাৎ বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হলে এত
সংরক্ষিত তথ্য মুছে যায় না।
ইপ্রম (EPROM)
Erasable Programmable Read Only Memory-এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো। EPROM বা PROM-এ
একবার তথ্য সংরক্ষণ করা হলে আর পরিবর্তন করা যায় না। তাই এ অসুবিধা দূর করার জন্য
একটি বিশেষ ধরনের ROM তৈরি করা হয়েছে, যার নাম EPROM। EPROM-এ সংরক্ষিত তথ্য মুছে
আবার নতুন করে বিশেষ প্রোগ্রামের সাহায্যে প্রোগ্রাম করা যায়। ROM, PROM-এর ন্যায়
EPROM-ও ‘Non Volatile Memory’ তথা 'অ-উদ্বায়ী', অর্থাৎ বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হলে
এর সংরক্ষিত তথ্য মুছে যায় না। তবে এ ধরনের রম থেকে প্রোগ্রামগুলো Ultra Violet
Ray এর সংস্পর্শে এনে প্রোগ্রাম মুছে ফেলা যায় এবং নতুন প্রোগ্রাম লিখে নিয়ে
পুনরায় উক্ত রমটি ব্যবহার করা যায়।
ইইপ্রম (EEPROM)
Electrically Erasable PROM-এর সংক্ষির রূপ হলো EEPROM। EPROM-এর মূল অসুবিধা হলো
এতে সংরক্ষিত তথ্য মুছতে প্রায় হলে আধা ঘন্টা সময় লাগে এবং আংশিক ভাবে কোন তথ্য
মুছা যায় না। এ অসুবিধা দূর করার জন্য EEPROM তৈরি করা হয়েছে। EEPROM-এ সংরক্ষিত
তথ্য প্রয়োজন মতো পুরোপুরি বা আংশিক বিদ্যুৎ প্রবাহ দ্বারা মুছে পুনঃপুনঃ
প্রোগ্রাম করা যায় এবং এতে সংরক্ষিত তথ্য মুছতে EPROM- এর তুলনায় অনেক কম সময়ে
সম্পন্ন করা যায়। EEPROM থেকে প্রোগ্রাম মুছতে হলে উক্ত রম আইসি সার্কিট থেকে
বাহির করতে হয় না বরং প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ প্রবাহ চালিয়ে উক্ত রমের প্রোগ্রাম
মুছে ফেলা যায় এবং নতুন প্রোগ্রাম লেখা যায়। EEPROM এ প্রোগ্রাম মোছার জন্য
প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে রমের ভিতর এক ধরনের ইলেকট্রিক ফিল্ড সৃষ্টি
হয় যা রমে সংরক্ষিত প্রোগ্রাম সমূহকে মুছে ফেলতে সহায়তা করে। পেনড্রাইডে
EEPROM ব্যবহার করা হয়।
ইএপ্রম (EAPROM)
EAPROM এর পূর্ণরুপ হলো Electrically Alterable Programmable Read Only Memory।
EPROM এর ন্যায় এ রম IC প্রোগ্রামও মোছা যায় বা পরিবর্তন করা যায় তবে
এক্ষেত্রে বড় অসুবিধা হলো উক্ত ROM এর প্রোগ্রাম থেকে সংরক্ষিত তথ্যসমূহ মুছতে
দীর্ঘ সময় প্রায় অর্ধেক ঘন্টা ধরে Ultra Violet Ray এর সংস্পর্শে রাখতে হয়।
তবে ইলেকট্রিক চার্জের মাধ্যমেও এ সকল রম এর প্রোগ্রাম পরিবর্তন করা যায়।
ROM এর গুরুত্ব
কম্পিউটার বা ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মৌলিক কার্যকারিতার জন্য ROM অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। ROM না থাকলে একটি কম্পিউটার বুঝতেই পারত না কীভাবে শুরু করতে হবে,
কারণ প্রয়োজনীয় Startup নির্দেশাবলী এতে সংরক্ষিত থাকে। ROM নিশ্চিত করে যে
গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম প্রোগ্রামগুলো সর্বদা প্রয়োজন থাকে, এমনকি যখন বিদ্যুৎ বন্ধ
থাকে। এটি সিস্টেমের নির্ভরযোগ্যতা, সুরক্ষা এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেহেতু ROM স্থায়ী ডেটা সংরক্ষণ করে, তাই এটি
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলীকে দুর্ঘটনাক্রমে মুছে ফেলা বা পরিবর্তন থেকে রক্ষা করে।
অতএব, ROM একটি মৌলিক উপাদান যা ডিজিটাল ডিভাইসগুলোর মসৃণ স্টার্টআপ এবং পরিচালনা
সক্ষম করে।
ROM এর ব্যবহার
কম্পিউটার এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসে স্থায়ী প্রোগ্রাম এবং নির্দেশাবলী
সংরক্ষণের জন্য শুধুমাত্র পঠনযোগ্য মেমোরি (ROM) ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ROM এর
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারগুলোর মধ্যে একটি হলো BIOS এর মতো ফার্মওয়্যার
সংরক্ষণ করা, যা কম্পিউটারকে সকল হার্ডওয়্যার উপাদানগুলো চালু করতে এবং তাদের
সাথে যোগাযোগ করতে সহায়তা করে। ROM বুটিং নির্দেশাবলী সংরক্ষণ করতেও ব্যবহৃত হয়
যা সিস্টেমটি চালু হলে অপারেটিং সিস্টেমকে RAM এ লোড করে। এছাড়াও, ROM মোবাইল
ফোন, ক্যালকুলেটর, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, রাউটার এবং ডিজিটাল
ক্যামেরার মতো এমবেডেড সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়, যেখানে সঠিক ক্রিয়াকলাপের জন্য
স্থির প্রোগ্রামের প্রয়োজন হয়। যেহেতু ROM এর ডেটা পরিবর্তন হয় না, এটি
ডিভাইসগুলোর স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য কার্যকারিতা নিশ্চিত করে।
RAM ও ROM এর মধ্যে পার্থক্য
| RAM | ROM |
|---|---|
| RAM হলো Random Access Memory এর সংক্ষিপ্ত রূপ। | ROM হলো Read Only Memory এর সংক্ষিপ্ত রূপ। |
| এটি একটি অস্থায়ী মেমোরি। | এটি একটি স্থায়ী মেমোরি। |
| RAM এ ডাটা সংরক্ষণ করা যায় এবং এর ডাটা রিড করা যায় এবং পরিবর্তন করা যায়। | ROM এর কিছু নির্দেশনা থাকে যা কখনও হারিয়ে যায় না। শুধু পড়া যায়। সংযোজন, পরিবর্তন কিংবা মুছে দেয়া যায় না। |
| RAM একটি উদ্বায়ী মেমোরি অর্থাৎ তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ হলে গেলে RAM থেকে সকল ডাটা মুছে যায়। | ROM অনুদ্বায়ী মেমোরি অর্থাৎ তড়িৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলেও রম এ লিপিবদ্ধ ডাটা মুছে যায় না। |
Timeline Treasures নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url