বিশ্বগ্রামের ধারণা-বিশ্বগ্রামের ধারণা সংশ্লিষ্ট প্রধান উপাদানসমূহ
Village বা গ্রাম হলো একটি ছোট গোষ্ঠী অথবা কতকগুলো বাড়ির সমষ্টি। নির্দিষ্ট
এলাকায় সীমিত আয়তনে একটি গ্রামের অবস্থান বিধায় গ্রামে বসবাসকারীরা সবাই সবাইকে
চিনে।
গ্রামে কোনো তথ্য প্রকাশিত হলে মুহূর্তেই তা মুখে মুখে জানাজানি হয়ে যায়।
গ্রামে যেকোনো মুহূর্তে একজন আরেকজনের কাজে সহযোগিতা করে থাকেন।
সূচিপত্রঃ- বিশ্বগ্রামের ধারণা-বিশ্বগ্রামের ধারণা সংশ্লিষ্ট প্রধান উপাদানসমূহ
বিশ্বগ্রামের ধারণা
'গ্লোবাল' শব্দের অর্থ হলো বিশ্ব। গ্লোবাল ভিলেজ অর্থ বিশ্বগ্রাম। গ্লোবাল
ভিলেজ হলো প্রযুক্তিনির্ভর একটি বিশ্ব, যাতে বিশ্বের সব দেশ সব জাতি একটি
গ্রামের মতো সুবিধা পায়। বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তেই গ্রামের অস্তিত্ব লক্ষ করা
হয়। কতকগুলো গ্রামের সমন্বয়ে শহর, কতকগুলো শহরের সমন্বয়ে একটি জেলা বা অঞ্চল
এবং কতকগুলো জেলা বা অঞ্চলের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে একটি দেশ। আবার অসংখ্য দেশের
সম্মিলিত ভৌগোলিক অবস্থানকে বিশ্ব বলে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে প্রযুক্তির
কল্যাণে বিশ্বের পরিধি আজ ছোট হয়ে এসেছে। বৃহৎ প্রেক্ষাপটে সে হিসেবে বিশ্বটাই
হলো একটি গ্রাম। অন্যকথায় 'পৃথিবী একটি একক পরিবার।’
বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ বলতে সাধারণত এমন একটি ধারণাকে বুঝানো হয়, যেখানে
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন পরস্পরের সাথে সহজ যাতায়াত ও ভ্রমণ, গণমাধ্যম
ও ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্ত থাকে এবং একক কমিউনিটিতে পরিণত হয়।
বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া বিশেষ করে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব-এর ব্যাপক ব্যবহার ও
প্রভাবের কারণে আজ বিশ্বের কোনো এক দেশের এক প্রান্তের লোকজন অন্য প্রান্তের
অন্য কোনো দেশের লোকের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ করতে পারছে। তথ্যের এ
আদান-প্রদান বিশ্বকে এতটাই কাছে নিয়ে এসেছে যে, এটি এখন একটি গ্রাম বা ভিলেজ
হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ- বাংলাদেশে অবস্থানকারী কোনো ব্যক্তি এখন
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তির সাথে তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে যোগাযোগ করতে
পারেন।
টেলিফোন, টেলিভিশন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেটসহ কিছু ইলেকট্রনিক মাধ্যম এক্ষেত্রে
দূরত্বের ব্যবধানটি ঘুচিয়ে দেয়। বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজে আজকাল বিশ্বের
একপ্রান্তের লোক অন্যপ্রান্তের লোকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। আজকের বিশ্বে
আমরা মূলত একটি বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজেই বসবাস করছি। যোগাযোগ,
কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা, গবেষণা, অফিস, বাসস্থান, ব্যবসায়-বাণিজ্য,
সংবাদ, বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক উপাদান বিনিময়ের ক্ষেত্রে
বিশ্বগ্রামের বহুল প্রভাব লক্ষ করা যায়।
বিশ্বগ্রাম ধারণা সংশ্লিষ্ট প্রধান উপাদানসমূহ
বিশ্বগ্রাম ধারণার সাথে অনেক উপাদান ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিশ্বগ্রাম ধারণা
সংশ্লিষ্ট প্রধান প্রধান উপাদানগুলো হলো- যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, শিক্ষা,
চিকিৎসা সেবা, গবেষণা, অফিস, বাসস্থান, ব্যবসায়-বাণিজ্য, সংবাদ, বিনোদন ও
সামাজিক যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়। নিম্নে উপাদান গুলো বর্ণনা করা হলো।
যোগাযোগ (Communication)
মানুষ সরাসরি কথা বলে, চিঠি-পত্র লিখে, বিভিন্ন অঙ্গ-ভঙ্গী প্রদর্শন করে,
টেলিফোন, মোবাইল বা অন্য কোন ডিটিজাল ডিভাইস ইত্যাদির মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশ
করে বার্তা পাঠায়। যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষ পরিবেশের অন্যান্য প্রয়োজনীয়
উপাদানের (যেমন-মানুষ বা কম্পিউটার) সাথে তার মনের ভাব প্রকাশ করে এবং
প্রয়োজনীয় ডেটা ও তথ্য আদান-প্রদান করে। যোগাযোগের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো
Communication যা ল্যাটিন শব্দ "commünicare" থেকে এসেছে। এর অর্থ হলো “to
share" বা ভাগাভাগি করা। এখানে ভাগাভাগি বলতে ডেটা বা তথ্যকে ভাগাভাগি বুঝানো
হয়েছে।
উইকিপিডিয়া অনুসারে- “Communication is the act of conveying intended
meanings from one entity or group to another through the use of mutually
understood signs and semiotic rules.”
অক্সফোর্ড ডিকশনারি অনুসারে যোগাযোগ হলো- “The imparting or exchanging of
information by speaking. writing, or using some other medium.”
যোগাযোগ বা Communication বলতে বোঝায় এক জায়গার সাথে অন্য জায়গার যোগাযোগ, যা
বিশ্বগ্রামের ধারণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই যোগাযোগই এখন
বিশ্বগ্রাম ধারণার প্রধান উপাদান। তথ্য প্রযুক্তির ক্রমবিকাশের ফলে এখন
তাৎক্ষণিক যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে। মূলত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলেই এটি
সম্ভব হয়েছে। নিয়ম ও নিরাপত্তার বিষয়টি বজায় রেখে তথ্য স্থানান্তর বা শেয়ার করা
হচ্ছে বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আধুনিক
টেলিযোগাযোগ যন্ত্রের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত কিছু যন্ত্র হচ্ছে ল্যান্ডফোন, মোবাইল
ফোন, রেডিও, টেলিভিশন, ওয়াকি-টকি প্রভৃতি। বিভিন্ন ধরনের টেলিযোগাযোগ
নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব যন্ত্র যোগাযোগ প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।
ফোন, ফ্যাক্স, ইন্টারনেট, ই-মেইল, অডিও-ভিডিও চ্যাটিং, এসএমএস, এমএমএস ও ভিডিও
কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা
যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ- বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হতে অসংখ্য প্রতিনিধি একই সময়ে
গ্রুপ কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে পরস্পরের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন।
ভাইপি, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার, ইমো, জুম, ডিসকোর্ড, টেলিগ্রাম বা
অন্যান্য ভিডিও চ্যাটিং অ্যাপের মাধ্যমে অনেক দূরে অবস্থানরত একজন আরেকজনের
সাথে সরাসরি কথা বলা ও ছবি দেখার সুযোগ পান। তাৎক্ষণিকভাবে সারা বিশ্বের যেকোনো
প্রান্তের সাথে যোগাযোগের জন্য ইন্টারনেটভিত্তিক এই পদ্ধতিগুলোর ব্যাপক
জনপ্রিয়তার একটি বড় কারণ হচ্ছে সময় ও অর্থের সাশ্রয়। এগুলো বিশ্বগ্রাম বা
গ্লোবাল ভিলেজের একটি উৎকৃষ্ট নমুনা।
যোগাযোগের আরেকটি মাধ্যম হলো যাতায়াত ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থাতেও তথ্য প্রযুক্তির
ব্যাপক প্রভাব লক্ষ করা যায়। আজকাল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে ওয়াই-ফাই,
ওয়্যারলেস, ব্লুটুথ, জিপিআরএস এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে। এছাড়া
যানবাহনে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ওয়াই-ফাই স্থাপন, গাড়ি চালনায় জিপিএস-এর
অন্তর্ভুক্তি আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থায় এনেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন।
বিশ্বগ্রামের সুবিধাসমৃদ্ধ যোগাযোগ ব্যবস্থা বা কমিউনিকেশন সিস্টেমকে আলোচনার
সুবিধার্থে দুইটি ভাগ করা যেতে পারে। যেমন-
ক. টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা (Telecommunication System)খ. তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা (Information Communication System)
কর্মসংস্থান (Employment)
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রধানতম হাতিয়ার হচ্ছে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট। এই
প্রযুক্তিসমূহ কর্মসংস্থানের বিশাল বাজার উন্মুক্ত করেছে। তথ্য প্রযুক্তির
কারণে চাইলে এখন ঘরে বসেই অনলাইনে প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ বা বিজ্ঞপ্তি
পাওয়া, ব্যাপক তথ্য প্রাপ্তির সুযোগ এবং তথ্য প্রযুক্তির সেবাসমূহকে কাজে কাজে
লাগিয়ে উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা এমনকি ঘরে বসে কাজ করার মাধ্যমে অর্থ উপার্জনও সম্ভব
হচ্ছে। তথ্য প্রযুক্তি কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ক্ষেত্রগুলোর
বিকাশে ব্যাপক সহায়ক হয়ে উঠেছে।
১. ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং২. উদ্যোক্তা উন্নয়ন
৩. অনলাইন মাধ্যমে চাকরির সুযোগ।
শিক্ষা (Education)
শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অবদান অনেক। প্রথাগত শিক্ষা উপকরণ
অর্থাৎ বইয়ের অতিরিক্ত হিসেবে ইন্টারনেট এখন শিক্ষা ও জ্ঞানের আধার। অনলাইনে
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা, পরীক্ষা দেয়া কিংবা শিক্ষামূলক বিভিন্ন
ওয়েবসাইট হতে শিক্ষা লাভ করা যায়। কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ সুবিধা থাকলে
বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থী তার শিক্ষার কার্যক্রম ঘরে বসে পরিচালনা
করতে পারে। এ ধরনের জনপ্রিয় একটি শিক্ষামূলক সাইট হলো www.khanacademy.org।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকা প্রবাসী সালমান খানের অনলাইনভিত্তিক এই একাডেমির
শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটিরও বেশি। আমাদের দেশের অন্যতম আইসিটি শিক্ষামূলক
সাইট হলো www.ictshikkha.org। অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীকে এক
স্থান থেকে অন্য স্থানে যাবার প্রয়োজন পড়ে না। এভাবে বিভিন্ন দেশের
শিক্ষার্থীরা পরস্পরের সাথে আন্তঃসম্পর্ক গড়ে তোলে, যা গ্লোবাল ভিলেজ
বাস্তবায়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ইন্টারনেট এখন প্রায় উন্মুক্ত বিশ্বকোষ। সাহিত্য, বিজ্ঞান ও গবেষণার যেকোনো
তথ্য সহজে এবং প্রায় বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আজকাল
হয়ে উঠেছে আরও আধুনিক। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সুবিধা যুক্ত হওয়ায় এক্ষেত্রে
এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ইন্টারনেট সুবিধা যুক্ত হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে ইন্টারনেট
থেকে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ জোগাড় করে তা শিক্ষার্থীদের শেখানোর ক্ষেত্রে
ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষকদের লেকচারগুলো ওয়েবসাইটে আপলোড করে সরবরাহ করা
হচ্ছে। পাঠ্যবইগুলো অনলাইনেই পাওয়া যাচ্ছে। আজকাল অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
শিক্ষার্থীদেরকে ট্যাব, ল্যাপটপ প্রদান করা হচ্ছে। পাঠ্যবইয়ের বিষয়গুলো এসব
ট্যাব ও ল্যাপটপে দিয়ে দেয়া হচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় এগুলো
দারুণ প্রভাব ফেলছে।
চিকিৎসা (Medical Facilities)
কম্পিউটার ব্যবহার করে অনলাইন থেকেও চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করা যায়। অনলাইনে
বিভিন্ন ডেটাবেজ ফাইলে হাজার হাজার রোগীর অবস্থা (History), প্যাথলজিক্যাল
রিপোর্ট ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র সংরক্ষণ করা আছে। সেখান থেকে
অবস্থাভেদে পরামর্শ গ্রহণ করা যায়। বর্তমানে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে
ডাক্তার একই সময়ে এক দেশে বসে অন্য দেশের রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে
পারেন। চিকিৎসা সেবাকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে
ইন্টারনেট বিরাট ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে আমাদের দেশে বিভিন্ন মোবাইল ফোন।
অপারেটররা টেলিমেডিসিন সার্ভিস দিচ্ছে। এভাবে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সমগ্র
বিশ্বটাই পরিণত হতে চলেছে বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজে।
গবেষণা (Research)
গবেষণা হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যেখানে সৃষ্টিশীল মেধা-মনন প্রয়োগ করে পৃথিবীর
জ্ঞানভান্ডার বৃদ্ধি বা সমৃদ্ধ করা হয়। একটি দেশের উন্নতির জন্য বৃহৎ পরিসরে
গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার বিকল্প নেই। গবেষণার মাধ্যমেই একটি দেশ ও জাতি
উন্নয়নের ধারায় নিজেকে যুক্ত করতে পারে। তবে নিজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আজকাল
গবেষণালব্ধ ফলাফল বৈশ্বিকভাবেও কাজে লাগছে। বৃহৎ কোনো গবেষণা প্রকল্পে আজকাল
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নামকরা সব গবেষক একটি দলে মিলেমিশে কাজ করেন। এর অন্যতম
কারণ হলো, বৃহৎ প্রকল্প পরিচালনার জন্য যে বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়, তা
অনেক দেশের পক্ষে একা করা সম্ভব হয় না।
সকলে মিলে করলে বৃহৎ প্রকল্পগুলোর অর্থ পরস্পর ভাগাভাগি করে নেয়ার ফলে তা
প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে দিতে পারে। তাছাড়া বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন মানের গবেষক মিলে
যদি একসাথে কাজ করেন, তবে তা অনেক বেশি ফলদায়ক হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের
গবেষণাগার সকল দেশে নেই। একসাথে কাজ করলে এক দেশের গবেষক অন্য দেশের গবেষণাগার
ব্যবহার করে কাজ করতে পারে। বিশ্বের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে এ ধরনের গবেষণা
কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর ফলে এক দেশের গবেষকের গবেষণালব্ধ জ্ঞানের সাথে অন্য
দেশের গবেষকের জ্ঞানের সম্মিলন ঘটে। জ্ঞানের এই আদান-প্রদানে পুরো প্রকল্পটি
অনেক সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। বৈশ্বিক সামাজিকীকরণে এটি বিরাট ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে পৃথিবীতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্য ছাড়া বিজ্ঞানী বা গবেষকরা
গবেষণার কথা চিন্তাও করতে পারেন না। গবেষণায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে উপাত্ত
ও তথ্যের সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ, জটিল হিসাব সম্পাদন, সিমুলেশন বা যন্ত্রপাতি
পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কর্মকাণ্ডগুলো সম্পাদন করা হয়ে থাকে। একটা সময়
পেটেন্ট, জার্নাল তথা গবেষণাপত্র প্রভৃতি এগুলো বেশ দুর্লভ বিষয় ছিল। গবেষণার
ক্ষেত্রে এগুলো বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু তথ্য ও
যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের কারণে এখন পেটেন্ট ডেটাবেজ প্রায় উন্মুক্ত
এবং জার্নালগুলো সবই ই-জার্নাল হিসেবে প্রকাশিত হয়। ফলে যেকোনো গবেষক সহজেই এই
বিশাল তথ্যভান্ডার ব্যবহার করতে পারে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে গবেষণা বিষয়টি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। উন্নত
ধনী দেশগুলো যে বিশাল বাজেটের গবেষণাগুলো চালিয়ে থাকে, উন্নয়নশীল বা গরিব
দেশগুলো অতো বিশাল বাজেট খরচ করে গবেষণা কার্যক্রম চালাতে পারে না। এক্ষেত্রে
বিভিন্ন গবেষণার বিস্তারিত বিবরণ ও ফলাফল বিশ্বব্যাপী ব্লগ, ওয়েবসাইট প্রভৃতির
মাধ্যমে শেয়ার করা হলে, তা সারাবিশ্বের গবেষকদের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।
বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কর্মরত গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত এমন
অসংখ্য কার্যকরী ব্লগ রয়েছে, যেমন- বায়োকেমিস্ট্রি বিষয়ে গবেষণার জন্য পরিচালিত
পুরস্কারজয়ী ব্লগ সাইট হলো BU Research Blog। একইভাবে অনলাইনে বিভিন্ন
ভার্চুয়াল ল্যাবরেটরি রয়েছে, যেগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে
ব্যবহার করে হাতে-কলমে বিজ্ঞানের বিষয় চর্চা বা গবেষণা করা সম্ভব। এরকম বেশকিছু
অনলাইন ল্যাবের মধ্যে go-lab-project.edu, olabs.edu.in প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।
ই-জার্নাল (e-journal): ই-জার্নাল হলো গবেষণা নথি বা প্রবন্ধের একটি
ডিজিটাল সংস্করণ, যা ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়। এর সুবিধাগুলো হলো, এটি যেকোনো
সময় যে কোনো স্থান থেকে অ্যাক্সেস করা যায়, ডাউনলোড বা ই-মেইল করা যায় এবং এর
কোনো নির্দিষ্ট অংশ বা পুরো জার্নালটি ইন্টারনেটে সার্চ করে বের করা যায় কিংবা
পাঠ করা যায়।
পেটেন্ট (Patent): পেটেন্ট হচ্ছে একচেটিয়া অধিকার, কোনো কিছু উদ্ভাবনের
জন্য এটা অনুমোদন করা হয়। উদ্ভাবনটি হতে পারে একটি পণ্য বা একটি প্রক্রিয়া, যা
কোনো কিছু সম্পাদনের নতুন পদ্ধতি প্রদান করে বা কোনো সমস্যার নতুন কারিগরি
সমাধান প্রস্তাব করে। একটি পেটেন্ট তার মালিককে তার উদ্ভাবনের সুরক্ষা প্রদান
করে। সীমিত সময়ের জন্য এই সুরক্ষা সাধারণত ২০ বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকে।
অফিস (Office)
বিভিন্ন পেশাজীবী যেখানে তাদের পেশা সংশ্লিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে থাকেন, তাকে
অফিস বা কর্মস্থল বলে। আজকাল অফিস ব্যবস্থাপনার কাজে আধুনিক সব যন্ত্রপাতি ও
চৌকস সফটওয়্যার ব্যবহৃত হচ্ছে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা অফিসগুলোর মধ্যে
পারস্পরিক কার্যক্রমের সমন্বয়ের জন্য অনলাইনভিত্তিক বা ওয়েববেজড অফিস
ব্যবস্থাপনার প্রচলন ঘটেছে। ফলে সীমানার গণ্ডি পেরিয়ে অফিসের কার্যক্রম এখন
আন্তর্জাতিকতায় রূপ লাভ করেছে। আধুনিক অধিকাংশ অফিসেরই নিজস্ব ওয়েবপেজ রয়েছে,
যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নানাবিধ কার্যক্রম সম্পাদিত হচ্ছে।
ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই অর্থ
উপার্জন করছেন।
আউটসোর্সিং-এর কাজে আজকাল অনেক বায়ারই পূর্ণকালীন কর্মী নিয়োগ দিচ্ছেন। এসব
কর্মী বাড়িতে বসেই প্রকৃত অফিস টাইমের মতোই পুরো সময়টি কাজ করছেন। বিশেষ ধরনের
সফটওয়্যার ব্যবস্থা কর্মীর কাজের উপস্থিতিকে নিশ্চিত করছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের
একজন বায়ার সেখানে বসেই বাংলাদেশি কোনো ওয়ার্কারকে ভাড়া করতে পারছেন। এক্ষেত্রে
ঘরই হলো ভার্চুয়াল অফিস, যেখান থেকে যাবতীয় কাজগুলো করা হচ্ছে। বায়ারকে
আলাদাভাবে অফিস ভাড়া করতে হচ্ছে না। এভাবে বিশ্বব্যাপী হাজার হাজার বায়ার তাদের
কাজগুলো লক্ষ লক্ষ কর্মী দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে করিয়ে নিচ্ছেন।
সকলের মধ্যকার এই বন্ধন সৃষ্টি করছে বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ।
অফিসিয়াল সকল কাজে তথা প্রযুক্তি ব্যবহার করার মাধ্যমে অফিসিয়াল কাজে কাগজের
ব্যবহার পরিহার করে চলে এমন ডিজিটালাইজড অফিসকে পেপারবিহীন অফিস বলা হয়। এ
ধরনের অফিসে অফিসিয়াল ফাইল বা তথ্যাবলি রাখার জন্য বিভিন্ন ক্লাউড সার্ভিস
ব্যবহার করা হয়। অফিস পরিচালনায় প্রয়োজনীয় এমন ক্লাউড সার্ভিসের মধ্যে গুগল
ড্রাইভ(Google Drive), ড্রপবক্স (dropbox.com), Office 365 Google Docs সার্ভিস
উল্লেখযোগ্য। গুগলের এই সার্ভিসগুলো ব্যবহার করে অনলাইনে তথ্য সংরক্ষণের ফলে
অফিসের তথ্য যেমন অযাচিত ব্যবহারকারীর হাতে পৌঁছায় না, তেমনি কোনো দুর্ঘটনা
যেমন- অগ্নিকাণ্ড, প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রভৃতি কারণে অফিসের ফাইলপত্রের ক্ষতি বা
তথ্য হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
অফিস পরিচালনার ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির আরেকটি প্রায়োগিক টুল হলো অফিস
অটোমেশন সিস্টেম। অফিস অটোমেশন হলো এমন এক ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম,
যার মাধ্যমে কমপিউটার, নেটওয়ার্কিংসহ তথ্য প্রযুক্তির আরও অন্যান্য ডিভাইস ও
সিস্টেম দ্বারা অফিসের সকল পেপার ওয়ার্ক ও যোগাযোগের কাজ পরিচালনা করা যায়।
অফিস অটোমেশনে ব্যবহৃত সফটওয়্যারগুলো হলো মাইক্রোসফট অফিস, ওপেন অফিস অর্গ,
অ্যাক্রোবেট রিডার ইত্যাদি। এছাড়াও অফিস পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সমস্ত তথ্য ও
প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কমপিউটার, মোবাইল ফোন,
ফ্যাক্স, স্ক্যানার, প্রিন্টার, ফটোকপিয়ার, প্রজেক্টর, সিসিটিভি, আইপি,
পিএবিএক্স, কর্মীদের হাজিরার জন্য বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস ইত্যাদি।
বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক উৎকর্ষতার কারণে ঘরে বসেও অফিসের সকল
কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং অফিস পরিচালনার সব ধরনের নির্দেশ ভিডিও কনফারেন্সিং-এর
মাধ্যমে প্রদান করা সম্ভব। ফলে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টা অফিস পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে।
চব্বিশ ঘণ্টা চালু থাকে এ ধরনের অফিসকে ভার্চুয়াল অফিস এবং প্রদত্ত সার্ভিসকে
24/7 সার্ভিস বলা হয়ে থাকে। ২০২০ সালের বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবের সময় আমাদের দেশসহ
সারা পৃথিবীতেই হোম অফিস ধারণাটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। হোম অফিস বলতে
কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘরে বসে কাজ করাকে
বোঝানো হয়ে থাকে। হোম অফিস করার জন্য একজন কর্মীর আবশ্যিকভাবে ইন্টারনেট
সংযোগসহ একটি ফোন ও একটি কম্পিউটার থাকতে হবে।
তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটালাইজড অফিসের নানাবিধ সুবিধা থাকলেও এর কিছু
অসুবিধাও পরিলক্ষিত হয়। ডিজিটালাইজড অফিসে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোতে নিরাপত্তা
ঝুঁকি এবং ভাইরাস আক্রমণ, অনভিজ্ঞ কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস, কাগজে
বা গতানুগতিক ফাইলে সংরক্ষিত তথ্যসমূহকে ডিজিটালাইজেশনের চ্যালেঞ্জ, গ্রাহকের
সাথে মিথক্রিয়া এবং সহকর্মীদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ হ্রাস, সফটওয়্যারসমূহের
নিয়মিত ও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ প্রভৃতি বিষয়গুলো এর অসুবিধা হিসেবে বিবেচ্য হয়ে
থাকে। সর্বোপরি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে জায়ান্ট
তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানির ডেটা সেন্টারগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহারের কারণে
ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়।
গুগল ড্রাইভ (Google Drive): গুগল ড্রাইভ হলো গুগল কর্তৃক ডেভেলপকৃত
বিনামূল্যের একটি ক্লাউড বেজ অনলাইন ফাইল স্টোরেজ সার্ভিস, যেখানে ইউজারগণ
তাদের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, ইমেজ, ভিডিও, সফটওয়্যার প্রভৃতি ফাইলসমূহকে ডিজিটাল
উপায়ে আপলোড করে সংরক্ষণ করতে পারেন। ২০১২ সালের ২৪শে এপ্রিল থেকে গুগল এই
সার্ভিস প্রদান শুরু করে। গুগলের আইডিধারী যেকোনো ইউজার প্রত্যেক আইডির বিপরীতে
গুগল ড্রাইভে বিনামূল্যে ১৫ গিগাবাইট অনলাইন স্পেস পেয়ে থাকেন।
ড্রপবক্স (dropbox.com): ড্রপবক্স একটি ফাইল হোস্টিং সার্ভিস, যা
ড্রপবক্স ইনকর্পোরেশন নামক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত হয়। এমআইটি-এর ড্রিউ
হিউস্টন (Drew Houston) ও আরাশ ফেরদৌসী (Arash Ferdowsi) ২০০৭ সালে ড্রপবক্স
ইনকর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। সার্ভিসটি ক্লাউড স্টোরেজ, ফাইল সিনক্রোনাইজেশন ও
ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার সার্ভিস দিয়ে থাকে। ড্রপবক্স তাদের ব্যবহারকারীদের নিজস্ব
কম্পিউটারে একটি নির্দিষ্ট ড্রপবক্স সিনক্রোনাইজড ফোল্ডার তৈরি করতে দেয়, যা
ব্যবহারকারী পরবর্তীকালে যেকোনো কম্পিউটার থেকে হুবহু অ্যাকসেস করতে পারে।
ড্রপবক্স মাইক্রোসফট উইন্ডোজ, অ্যাপল। ইনকর্পোরেটেড, ম্যাক ওএস এক্স, লিনাক্স,
গুগল অ্যান্ড্রয়েড, অ্যাপল আইওএস, ব্ল্যাকবেরি ওএস এবং ওয়েব ব্রাউজারগুলোর
জন্য ক্লায়েন্ট সফটওয়্যার সরবরাহ করে থাকে।
অফিস ৩৬৫ (Office 365): Office 365 একটি মাইক্রোসফট প্রোডাক্ট, যা ফ্রি
বা সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান ব্যবহার করে ক্লাউড-ভিত্তিক অফিস অ্যাপ্লিকেশন
ব্যবহারের সুযোগ প্রদান করে। এটি বিভিন্ন ক্লাউড পরিষেবা ও মাইক্রোসফট অফিস
অ্যাপ্লিকেশন (অফিস ২০১৬) অ্যাক্সেসের অনুমতি দেয়, যা অফলাইনে কাজ করার জন্য
একাধিক ডিভাইসে স্থানীয়ভাবে ইনস্টল করা যায়। Office 365 অ্যাক্সেসের জন্য
ব্যবহারকারীদের অবশ্যই একটি মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
গুগল ডকস (Google Docs): গুগল ডকস হলো ক্লাউডভিত্তিক মাইক্রোসফট ওয়ার্ড
প্রসেসর, যা গুগল তার গুগল ড্রাইভপরিষেবার মধ্যে প্রদান করে। এটি একটি ফ্রি,
ওয়েব-ভিত্তিক অফিস স্যুট সফটওয়্যারের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। এই পরিষেবাটিতে
যথাক্রমে গুগল শিট ও গুগল স্লাইডস, স্প্রেডশিট ও প্রেজেন্টেশন প্রোগ্রাম
অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গুগল ডকস ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ,
ব্ল্যাকবেরির জন্য মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ও গুগল ক্রোমে ডেস্কটপ অ্যাপ্লিকেশন
হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
বাসস্থান (Residence)
মানুষ যেখানে বসবাস করে, সেটিই তার বাসস্থান। কিন্তু গতানুগতিক এই ধারণা
অনেকটাই বদলে যেতে শুরু করেছে। আধুনিক ইন্টারনেটের যুগে মানুষ এক দেশে বসেই
অন্য দেশে ভার্চুয়ালি বিচরণ বা বসবাস করতে পারছেন। যেমন-চায়নায় বসে কেউ কানাডার
কোনো আত্মীয়ের সাথে ভিডিও চ্যাটিং করছেন। উভয় প্রান্তের লোকগুলো একে অপরকে
সামনা-সামনি দেখছেন। ঠিক যেন তিনি চায়নায় না বসে কানাডায় উক্ত আত্মীয়ের বাড়িতে
অবস্থান করছেন। সবাই হয়ে উঠছেন ইন্টারনেটের অধিবাসী বা নেটিজেন। গ্লোবাল বিশ্বে
মানুষ তৈরি করছে তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক বাসস্থান বা স্মার্ট হোম।
স্মার্ট হোম হলো এমন একটি বাসস্থান, যেখানে রিমোট কন্ট্রোলিং বা প্রোগ্রামিং
ডিভাইসের সাহায্যে বাড়ির হিটিং সিস্টেম, কুলিং সিস্টেম, লাইটিং সিস্টেম,
সিকিউরিটি কন্ট্রোল সিস্টেম ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। স্মার্ট হোমের পদ্ধতিকে
হোম অটোমেশন সিস্টেম (Home Automation System) বলা হয়। একটি স্মার্ট হোমে
ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- টেলিভিশন, এসি, লাইটিং, ফ্যান, সিকিউরিটি
ক্যামেরা ইত্যাদি পরিচালনার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল বা রিমোট কন্ট্রোলিং
ডিভাইস ব্যবহার করে সেগুলোকে কোনো কেন্দ্রীয় অবস্থানে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পোন্নত দেশ যেমন- চীন, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া ইত্যাদি দেশে
গ্লোবাল রেসিডেন্স বা বৈশ্বিক বাসস্থান তৈরি করা হচ্ছে।
তথ্য প্রযুক্তির কল্যাণে বিভিন্ন সুবিধা সংবলিত এসব বাসস্থানে বসবাসকারীর সবাই
কমন কিছু সুবিধা উপভোগ করছে। যেমন, ওয়াই-ফাই প্রযুক্তিতে ইন্টারনেট ব্যবহার,
ক্যাবল টিভি, ইন্টারকম, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ব্যায়ামাগার, কমিউনিটি
সেন্টার, লন্ড্রি, হেলথ ও অন্যান্য সার্ভিস। বাসস্থানের নিরাপত্তার জন্য
ব্যবহার করা হচ্ছে আইপি ক্যামেরা। স্বয়ংক্রিয় পার্কিং ব্যবস্থা সংবলিত এসব
বাসস্থানে প্রয়োজনীয় সব আসবাবপত্র সেটিং করা থাকে, যাতে ব্যবহারকারীরা সহজেই
আরামে বসবাস করতে পারেন। গ্লোবাল রেসিডেন্সকে এমনভাবে সাজিয়ে তোলা হয়, যাতে
বসবাসকারীদের মধ্যে একটি পারিবারিক পরিবেশ বিরাজ করে।
ব্যবসায়-বাণিজ্য (Business)
ব্যবসায়-বাণিজ্যের পরিধি আজ বিশ্বময় বিস্তৃত। কয়েক দশক আগেও বিশ্বের এক দেশের
সাথে অন্য দেশের ব্যবসায়- বাণিজ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে
বিভিন্ন ধরনের জটিল সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। আর এখন তথ্য ও যোগাযোগ
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ব্যবসায়-বাণিজ্যের পালে নতুন হাওয়া লেগেছে। প্রথাগত ব্যবসার
বাইরে ই-কমার্স এর প্রচলন ঘটেছে। বিশ্বের এক প্রান্তের কোনো ক্রেতা তার ঘরে
বসেই যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের কোনো পণ্যের অর্ডার দিতে পারেন এবং
ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে পারেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই উক্ত
পণ্য ক্রেতার ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে। বিশাল পরিমাণ বাণিজ্যিক কার্যক্রম এখন অনলাইনে
সম্পন্ন হচ্ছে।
সমগ্র বিশ্বের ক্রেতারাই এখন বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযুক্ত হয়ে পড়েছে। এভাবে গড়ে
উঠছে বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ। জাতীয়/রাজস্ব অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে এখন
কেবল আর পণ্যের বাজার নিজের দেশের গণ্ডির মধ্যে রাখলে চলবে না, একে তুলে ধরতে
হবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। তবেই সৃষ্টি হবে বৈশ্বিক ব্যবসায়-বাণিজ্য। এতে করে
বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য ঘাটতি কমে আসবে। প্রযুক্তি শেয়ার ও স্থানান্তরের
মাধ্যমে উন্নত হবে শিল্প কারখানাগুলো। এ লক্ষ্যে আমাদের দেশেও স্থাপিত হয়েছে
Export Processing Zones (EPZ)। এখানে উৎপাদিত পণ্য আন্তর্জাতিক মানের হয়।
এখানে রয়েছে বিশ্বমানের সকল ব্যবস্থা। সৃষ্টি হয়েছে বৈশ্বিক ব্যবসায়-বাণিজ্যের।
সংবাদ (News)
প্রতি মুহূর্তেই বিশ্বে ঘটে চলেছে নানান ধরনের ঘটনা। আগে যেখানে এক দেশে সংঘটিত
কোনো ঘটনা অন্য দেশের গোফের জানতে অনেক সময় লাগতো, এখন তা সাথে সাথেই জানা
সম্ভব হচ্ছে। স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ইন্টারনেট নির্ভর অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলো
বিভিন্ন বিষয়ধর্মী খবরাখবর অবিরাম সরবরাহ করে চলেছে। এর মাধ্যমে বিশ্বের
বিভিন্ন প্রান্তের লোকজন পরস্পর সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পারছে। সৃষ্টি হচ্ছে
একটি অদৃশ্য সামাজিক বন্ধন, যা দেশের সীমানায় আবদ্ধ থাকছে না। গড়ে উঠছে
বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ। বিভিন্ন নিউজ চ্যানেল যেমন- রয়টার্স, বিবিসি,
সিএনএন, আল-জাজিরা প্রভৃতি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে
ঘটা যেকোনো খবর তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের পৌঁছে দিচ্ছে।
আমাদের দেশেও সম্প্রতি অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এগুলোর
মধ্যে www.bdnews24.com, banglanews24.com প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও
বর্তমানে প্রায় সকল খবরের কাগজ তাদের অনলাইন সংস্করণ নিয়মিতভাবে প্রকাশ করছে।
মুঠোফোন কোম্পানিগুলো সর্বশেষ আপডেট নিউজ সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে প্রচার করছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন- ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদিতে বিশ্বের
মানুষ প্রতিনিয়তই তাদের মতামত শেয়ার করছে। ফলে সারা পৃথিবীর মানুষ প্রতি
মুহূর্তে বিশ্বের সর্বশেষ খবরাখবর এখান থেকেও জানতে পারছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, গণআন্দোলন, যুদ্ধ কিংবা দুর্ভিক্ষের সংবাদ সারা পৃথিবীর
মানুষের মাঝে বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতার জন্ম দেয়। ২০১০ সালে তিউনিসিয়ায় শুরু
হওয়া গণবিক্ষোভ ধীরে ধীরে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে মিশর,
সিরিয়া, লিবিয়া, ইয়েমেনসহ আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই গণবিপ্লবের
ঝড়কে 'আরব বসন্ত' নামে অভিহিত করা হয়। অনুরূপভাবে, ২০২০ সালে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, সেটি অনলাইন
গণমাধ্যমের কল্যাণে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বিস্তৃতি লাভ করেছিল।
গণমাধ্যম (Mass Media): গণমাধ্যম হচ্ছে সংগৃহীত সকল ধরনের মাধ্যম, যা
প্রযুক্তিগতভাবে গণযোগাযোগ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই মাধ্যম বৈদ্যুতিক
যন্ত্রপাতির সাহায্যে তথ্যাবলি প্রেরণ করে বিধায় এগুলোকে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া বা
সম্প্রচার মাধ্যম নামে অভিহিত করা হয়। মোবাইল বা সেল ফোন, কম্পিউটার ও
ইন্টারনেটকেও অনেক সময় নতুন ও যুগের গণমাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বিশেষত
ইন্টারনেট স্বীয় ক্ষমতাবলে ইতোমধ্যেই অন্যতম গণমাধ্যম হিসেবে ব্যাপক স্বীকৃতি
অর্জন করেছে। এ মাধ্যমে অনেক প্রকার সেবা, বিশেষ করে ই-মেইল, ওয়েবসাইট, ব্লগিং,
ইন্টারনেট, আইপি টিভি প্রভৃতি পরিচালিত হচ্ছে। এ কারণে অনেক গণমাধ্যমের পদচারণা
ওয়েব সাইটে দেখা যায়।
ব্লগ (Blog): ইংরেজি Blog শব্দটি এসেছে Weblog এর সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে,
যার বাংলা প্রতিশব্দ হলো ব্লগ। এটি এক ধরনের অনলাইন ব্যক্তিগত দিনলিপি বা
ব্যক্তিকেন্দ্রিক পত্রিকা হিসেবে পরিচিত। যিনি ব্লগে পোস্ট করেন, তাকে ব্লগার
বলা হয়। ব্লগাররা প্রতিনিয়ত তাদের ব্লগ সাইটে আপডেট কনটেন্ট যুক্ত করেন আর
ব্যবহারকারীরা সেখানে তাদের মন্তব্য যোগ করতে পারেন। সাম্প্রতিককালে ব্লগ,
ফ্রিল্যান্স অনলাইন সাংবাদিকতার একটা মাধ্যম হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক ঘটনাসমূহ
নিয়ে এক বা একাধিক প্রগার নিয়মিত তাদের ব্রণ হালনাগাদ করে থাকেন। আমেরিকান
বিখ্যাত উদ্যোক্তা রিচার্ড ম্যাথিউ স্টলম্যান (Richard Mathew Stalman) ছিলেন
ব্লগিং ধারণার প্রতিষ্ঠাতা, যে কারণে তাঁকে ব্লগিং-এর জনক বলা হয়। স্টলম্যান
ছিলেন মূলত মুক্ত সফটওয়্যার আন্দোলনের পথিকৃৎ।
অনলাইন নিউজ পোর্টাল (Online News Portal): অনলাইন নিউজ পোর্টাল বলতে
কোনো মুদ্রিত সংবাদপত্র বা সাময়িকীর অনলাইন সংস্করণ কিংবা সরাসরি অনলাইনে
প্রকাশিত সংবাদপত্র বা সাময়িকীকে বোঝানো হয়ে থাকে। বর্তমানে নিউজ ও ম্যাগাজিন
শিল্পের অধিকাংশই অনলাইন নিউজ পোর্টাল পরিষেবা প্রদান করে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে
ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭৪ সালে 'নিউজ রিপোর্ট' নামে প্রথম অনলাইন
নিউজ পোর্টাল প্রকাশিত হয়। এরপর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংবাদপত্র তাদের অনলাইন
সংস্করণ চালু করে। তবে ২০০০ সালে যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত 'সাউথপোর্ট
রিপোর্টার' আধুনিক অনলাইন নিউজ শোটাল হিসেবে পরিচিতি পায়। বাংলাদেশে ২০০৪ সালে
যাত্রা শুরু করে দেশের প্রথম অনলাইন নিউজ পোর্টাল bdnews24.com। বর্তমানে দ্রুত
অগ্রসরমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইন নিউজ
পোর্টাল। কম খরচ ও সহজলভ্য দ্রুতগতির ইন্টারনেটের কারণে এই মাধ্যমে
উদ্যোক্তাদের আগ্রহও ক্রমশ বাড়ছে।
তবে তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে ইন্টারনেটভিত্তিক নিউজ পোর্টাল কিংবা সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ প্রচারের সহজলভ্যতা বেশ কিছু ঝুঁকির সৃষ্টি করছে। এ
সমস্ত মাধ্যমের অপব্যবহার দ্বারা মিথ্যা কিংবা বিদ্বেষমূলক সংবাদ প্রচারণা এখন
সারাবিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও একটি বড় সমস্যার সৃষ্টি করছে। উন্নত বিশ্বে এগুলো
প্রতিহত করার জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন
নিজস্ব নিউজ সার্ভার, শক্তিশালী ডেটাবেজ, নেটওয়ার্ক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
প্রভৃতি ডেভেলপ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের ব্যবস্থাগুলো জরুরি ভিত্তিতে
নেওয়া প্রয়োজন।
বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগ (Entertainment and Social communication)
বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে অনলাইন গেমিং অন্যতম জনপ্রিয়
একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকাল ইন্টারনেটে টিভি ও রেডিও চালু হওয়ায় স্ট্রিমিং
অডিও-ভিডিও প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর-দূরান্তে বসেও টিভি ছাড়াই কম্পিউটারে টিভি
দেখা যায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সাইটে বন্ধুত্ব তৈরি করার পাশাপাশি ছবি
ও ভিডিও শেয়ার করা যায়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইট যেমন-
ফেসবুক, টুইটার, মাইস্পেস, ডিগ, ইউটিউব, ফ্লিকার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম,
মেসেঞ্জার, স্কাইপি ইত্যাদি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের জনগোষ্ঠীকে পরস্পরের
কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। সামাজিক বলয়ের গণ্ডি নিজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এখন
বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত হয়েছে। বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজ-এর রূপায়ণে এগুলো
অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রাখছে।
সাংস্কৃতিক বিনিময় (Cultural exchange)
মানব সংস্কৃতি সর্বদাই পরিবর্তনশীল। পুরোনো সংস্কৃতি ভেঙে নতুন নতুন সংস্কৃতিতে
প্রবেশ করা স্বাভাবিক মানবধর্ম হিসেবে যুগে যুগে পরিচিত। তথ্য প্রযুক্তির
কল্যাণে আজ শিল্প ও সাহিত্য ক্ষেত্রেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। সাহিতোর ক্ষেত্রে
প্রকাশনার কাজগুলো আজকাল কম্পিউটার ও ইন্টারনেট প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায়
সম্পন্ন করা হচ্ছে। সংস্কৃতির নানা কর্মকাণ্ড ইন্টারনেট, রেডিও এবং টেলিভিশনের
কল্যাণে মুহূর্তেই বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে। এক দেশের
লোক অন্য দেশের সংস্কৃতির সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত হবার বিরল সুযোগ লাভ করছে।
এভাবে ঘটছে সংস্কৃতির আদান-প্রদান। এর ফলে সকলের মধ্যে গড়ে উঠছে এক বিনি সুতোর
বন্ধন, যা বিশ্বগ্রাম তথা গ্লোবাল ভিলেজ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কাজ করছে। এটিকে
'সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন' নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে।
এর মধ্যদিয়ে মানুষ যেমন সামাজিক অচলায়তন ভেঙে দ্রুতই বিশ্বায়নমুখী হয়ে উঠছে,
তেমনি সমাজে এর বেশ কিছু কুফলও সৃষ্টি হচ্ছে। বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর হাজার বছরের
নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ভেঙে এককেন্দ্রিক বিশ্ব সংস্কৃতি অনেক ক্ষেত্রে
মানুষের আত্মপরিচয়ের সংকট ও সামাজিক নিজস্বতা ভেঙে ফেলছে। সামাজিক প্রেক্ষাপট
অনুসারে এশিয়া, ইউরোপ কিংবা আফ্রিকা তথা প্রতিটি মহাদেশেরই কিছু স্বকীয়তা
রয়েছে। সাংস্কৃতিক বিশ্বায়ন অনেক ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোকে হুমকির মুখে ফেলে
দিচ্ছে।
বিশ্বগ্রাম ধারণার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন
গ্লোবাল ভিলেজ ধারণার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ এবং
পরিষেবাগুলিকে সংযুক্ত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে। এটি তথ্য এবং সুযোগের সমান
অ্যাক্সেস নিশ্চিত করে শহর ও গ্রামীণ এলাকার মধ্যে ব্যবধান হ্রাস করে। এই
দৃষ্টিভঙ্গি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ডিজিটালভাবে ক্ষমতায়িত সমাজ গঠনে সহায়তা
করে।
ইন্টারনেট অফ থিংস (Internet of Thinks = IOT)
সাম্প্রতিক সময়ে ‘ইন্টারনেট অফ থিংস’ বা ‘আইওটি’ নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক
আলোচনা চলছে। গুগলসহ বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনসমূহে আইওটি সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে
জানতে সার্চের পরিমাণ বেশ বেড়েছে। ‘ইন্টারনেট অফ থিংস’ বা ‘আইওটি’ এর কল্যাণে
মারশাল ম্যাকলুহানের বিশ্বগ্রাম ধারণার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব হতে যাচ্ছে।
ইন্টারনেট অফ থিংস বা আইওটি হল এমন একটি নেটওয়ার্ক যাতে বাহ্যিক বিভিন্ন ডিভাইস
বা যন্ত্রপাঠি, গাড়ি, বাড়ি ইত্যাদি সামগ্রী পরস্পর ডেটা সংগ্রহ ও বিনিময় করার
জন্য ইলেকট্রনিক্স, সফট্ওয়্যার, সেন্সর ও নেটওয়ার্ক কানেকটিভিটি অনুবিদ্ধ
(embedded) থাকে। এটি একটি বিশাল নেটওয়ার্ক যা বিভিন্ন বস্তুকে ডেটা
আদান-প্রদানের জন্য সংযুক্ত করে।
Don't forget buy milk!
মানুষকে বিভিন্ন কাজে সাহায্য করবে। এটা হল মূলতঃ নেটওয়ার্ক, প্রোগ্রাম, সেন্সর
আর মেশিনের সমন্বয়ে গঠিত একটি সিস্টেম যেটা দিয়ে ডিভাইসগুলো একে অপরের সঙ্গে
যোগাযোগ করতে পারে এবং ডেটা বিনিমিয় করতে পারে। উদাহরণ হিসেবে স্মার্ট ফ্রিজের
কথা বলা যেতে পারে। আইওটি প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করা গেলে স্মার্ট ফ্রিজ হবে এমন
একটি যন্ত্র যা নিজ থেকেই ভেতরে প্রয়োজনীয় খাদ্য আছে কিনা তা শনাক্ত করতে সক্ষম
হবে। এক্ষেত্রে ফ্রিজের ভেতরে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে যা ফ্রিজের ভেতরের অবস্থা
পরিদর্শন করে ব্যবহারকারীকে টেক্সটে বা এসএমএস এর মাধ্যমে সামগ্রিক অবস্থা
জানাবে। প্রয়োজনে ব্যবহারকারীর পক্ষে সুপার মার্কেটে অর্ডার প্লেস করতে পারবে।

Timeline Treasures নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url