হার্ডওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ (Hardware Maintenance)-কম্পিউটার হার্ডওয়্যার মেইনটেন্যান্স

সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া কোন ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইস দীর্ঘদীন স্থায়ী হতে পারে না। অতএব, যে কোন প্রকার ক্ষয়ক্ষতি হতে রেহাই, ত্রুটি মুক্ত করা এবং দীর্ঘদীন স্থায়ীত্বের কথা ভেবে ব্যবহারকারীর প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক যন্ত্রের যথাযথভাবে যত্ন বা পরিচর্যা করা উচিত। তদ্রুপ কম্পিউটার ও একটি ইলেক্ট্রনিক যন্ত্র যা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন।

হার্ডওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ আর্টিকেলে থাকছেঃ

  • হার্ডওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ কি?
  • কম্পিউটারকে সুষ্ঠুভাবে চালাতে যে সাবধানতা অবলম্বন করবেন
  • কিছু গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার হার্ডওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ

হার্ডওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ কি?

কম্পিউটারের যে অংশ ধরা, ছোঁয়া বা দেখা যায় (যেমন-মনিটর, কী-বোর্ড, মাউস, প্রিন্টার ইত্যাদি) তাকে হার্ডওয়্যার বলা হয়। তাই কম্পিউটার এর বাহ্যিক ডিভাইসগুলোর যত্ন নেয়াকে বলে হার্ডওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ।

কম্পিউটারকে সুষ্ঠুভাবে চালাতে যে সাবধানতা অবলম্বন করবেন

কম্পিউটারকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও কর্মদক্ষতা ঠিক রাখার জন্য নিম্মলিখিত সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
১. কম্পিউটার চালু অবস্থায় হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না।
২. কম্পিউটারের প্রোগ্রামগুলো ভাইরাস মুক্তয়াখতে হবে।
৩. কম্পিউটার কক্ষকে পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে হবে।
৪. কম্পিউটারকে কারণে অকারণে অতিরিক্ত নড়াচড়া করা যাবে না।
৫. কম্পিউটারের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ শীতল তাপমাত্রা বজায় রাখতে হবে।
৬. কম্পিউটারের মধ্যে নিয়মিত বিদ্যুৎ প্রবাহের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৭. ঘন ঘন কম্পিউটার সুইচ অফ অন করবেন না।

কম্পিউটার চালু অবস্থায় হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না

কম্পিটার চালু করে কাজ করার সময় হঠাৎ করে কম্পিউটারটি বন্ধ করে দেয়া, কম্পিউটারের তথ্য ও কম্পিউটারে প্রোগ্রামগুলোর জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। কম্পিউটারে যখন কোনো কাজ করা হয় তখন কম্পিউটারের মেমোরিতে ধারণকৃত প্রোগ্রামগুলো যথারীতি কাজ করে এবং একই সাথে ব্যবহারকারী কর্তৃক প্রদত্ত নানা রকম কমান্ডগুলো ভেতরে সম্পাদিত হতে থাকে।

এমতাবস্থায় কম্পিউটারটি কাজের মাঝখানে হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে নতুবা যে কোন কারণে বন্ধ হয়ে গেলে কম্পিউটারের মধ্যে ক্রিয়ারত প্রোগ্রামগুলো নিজে নিজে গুছিয়ে নেয়ার সুযোগ পায় না, ফলে পরবর্তীতে প্রোগ্রামগুলোতে অসুবিধা দেখা দিতে পারে।

কম্পিউটারের প্রোগ্রামগুলো ভাইরাস মুক্ত রাখা

কম্পিউটার সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে আরেকটি বড় প্রতিন্ধক হল ভাইরাস। কম্পিউটারটি ভাইরাস কর্তৃক আক্রান্ত হলে কম্পিউটারে Install কৃত প্রোগ্রামগুলো, বিভিন্ন ডাটা বা তথ্য এবং নথিপত্র উলট-পালট করে দিতে পারে, এমনকি হার্ডডিস্কের পার্টিশন লেভেলকেও পরিবর্তন করে দিতে পারে। অতএব বলা যায়, ভাইরাস হচ্ছে কম্পিউটার প্রোগ্রামের সবচেয়ে বড় শত্রু।

সাধারণত: ভাইরাস প্রোগ্রাম প্রেগ্রামার কর্তৃক সৃষ্টি হয়ে থাকে, যা পিসিতে ফ্লপি ডিস্ক, সিডিরম ড্রাইভএবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে এগুলো ছড়ায়। ভাইরাস আক্রান্ত এমন কোন ফ্লপি ডিস্ক বা সিডি কিংবা অন্য কোন হার্ডডিস্ক কম্পিউটারে প্রবেশ করালে সে ভাইরাস আপনা আপনি কম্পিউটারের মেমোরিতে প্রবেশ করে। তাই কম্পিউটারে কোন ফ্লপি ডিস্ক, সিডি কিংবা অন্য হার্ডডিস্ক প্রবেশ করানোর পূর্বে এতে ভাইরাস আছে কিনা ভালভাবে পরীক্ষা করে নেয়া উচিত।

বিভিন্ন রকমের ভাইরাস আক্রান্ত সফটওয়্যারকে রক্ষা করতে কিংবা প্রতিকারক হিসেবে বর্তমান বাজারে কম্পিউটারের উন্নতমানের এন্টি ভাইরাস প্রোগ্রাম পাওয়া যাচ্ছে। এরকম এন্টিভাইরাস প্রোগ্রামের সাহায্যে কোন ডিস্কে ভাইরাস আছে কিনা যেমন পরীক্ষা করা যায়, তেমনি কোন ভাইরাস খুঁজে পেলে তা পরিষ্কার করে নেয়া যায়।

কম্পিউটার কক্ষকে পরিষ্কার পরিছন্ন রাখা

অপরিষ্কার কক্ষ বা রুম কম্পিউটারে সমস্যা সৃষ্টি এবং কম্পিউটার যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যাবার বিরাট অন্তরায়। তাই কম্পিউটার স্থাপনকৃত কক্ষটি হতে হবে-
১। ধূলাবালি এবং ধূয়া মুক্ত।
২। অত্যাধিক তাপমাত্রা মুক্ত।
কম্পিউটার কক্ষে অতিরিক্ত ধূলোবালি, এবং ধূয়া প্রবেশ করলে কম্পিউটারের বিভিন্ন উপাদান যেমন- চিপস, সার্কিট ইত্যাদির উপর এক প্রকার আবরণ পড়ে এবং ইহার ফলে কম্পিউটারের যন্ত্রপাতিগুলো অত্যাধিক গরম হয়ে কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ নষ্ট এবং নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া ধূলাবালির কারণে কী-বোর্ডের উপর অত্যাধিক ধুলোর আবরন পড়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের বাঁধা সৃষ্টি হয় ফলে কী-বোর্ড ঠিকমত কাজ করে না। এধরণের সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই কম্পিউটার কক্ষটিকে ধূলামুক্ত ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার বিশেষ প্রয়োজন। তাই কম্পিউটার কক্ষটি ধূলাযুক্ত ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য করণীয় বিষয়গুলো হল-
১। কম্পিউটার কক্ষে এয়ার কন্ডিশন ব্যবহার করা যদি সম্ভব না হয় তাহলে কক্ষটির দরজা জনালায় মোটা পর্দা এবং মেঝেতে প্লাস্টিকের কার্পেট ব্যাবহার করা।
২। কম্পিউটার প্রিন্টার তথা কম্পিউটার সংক্রান্ত যাবতীয় বাহ্যিক উপাদানগুলোকে কাপড় কিংবা পাতলা পলথিন দিয়ে ঢেকে রাখা।
৩। কম্পিউটার কক্ষটিকে প্রায়শঃই ভ্যাকুয়াম ক্লিনার অথবা ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করা।

আরো সর্তকতা মূলক ব্যবস্থা হিসাবে কম্পিউটার কক্ষে কোন প্রকার খাবার খাওয়া যাবে না। বাহির থেকে কোন প্রকার জুতা ব্যবহার করা মোটেও উচিত নয়। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে কম্পিউটারকে অতিরিক্ত নড়াচড়া করা কম্পিউটার যন্ত্রাংশ এবং ডিভাইসমূহে নষ্ট হয়ার জন্য মারাত্বকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। কেননা কম্পিউটারের আভ্যন্তরীণ গঠন, উহার চিপসমূহ অত্যন্ত সূক্ষ্ম এবং সুনিপুণ, বিশেষ করে কম্পিউটার চালু অবস্থায় কখনোই নড়াচড়া করানো উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে সফটওয়্যার প্রোগ্রামের ও নানা ধরণের ক্ষতি হতে পারে।

কম্পিউটারকে কারণে অকারণে অতিরিক্ত নড়াচড়া করাবেন না

অনেক সময় দেখা যায় যে, New user তথা কম্পিউটারের ব্যাপারে একদম অজ্ঞ User গণ কর্তৃক কম্পিউটার নড়াচড়া করিলে অনেক ক্ষেত্রে মাদারবোর্ড থেকে Sound card loose হয়ে Sound বন্ধ হয়ে যায়। আবার VGA/ AGP Card টি Loose হয়ে মনিটরের Screen- এ Display প্রদর্শিত হয় না। ফলে User গণের আচমকা ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। তাই কম্পিউটারে ব্যবহারে অভিজ্ঞ/ অনভিজ্ঞ User গণ কর্তৃক কখনো কম্পিউটার যাতে অতিরিক্ত নড়াচড়া করতে না হয়। সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে।

কম্পিউটারের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ শীতল তাপমাত্রা

অতিরিক্ত তাপমাত্রা কম্পিউটারের জন্য মারাত্বক ক্ষতিকর। এমনিতেই কম্পিউটারের কভারের ভেতরের তাপমাত্রা সহনীয় অবস্থায় রাখার জন্য Casing এর Power supply এর সাথে একটি ফ্যান এবং অপর একটি ফ্যান-Processor এর উপর বসানো হয়। কেননা, অত্যাধিক গরম হওয়ার কারণে কম্পিউটার এর ROM এ লিপিবদ্ধ তথ্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এছাড়াও কম্পিউটার কক্ষটিকে সর্বদা তাপমুক্ত এবং ধূলোবালি মুক্ত রাখতে হবে। কেননা ধূলোবালি এবং তাপমাত্রা একত্রে বিক্রিয়া করিয়া অতিরিক্ত তাপের সৃষ্টি হয়। সেজন্য কম্পিউটার কক্ষটি শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত হওয়া প্রয়োজন। আবার কম্পিউটারের সুইচকে ঘনঘন অফ অন করলেও উচ্চে তাপমাত্রার সৃষ্টি হতে পারে। এই উচ্চ তাপমাত্রা কম্পিউটারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই খুব সামান্য সময়ের ব্যবধানে কম্পিউটারকে বন্ধ করে পুনরায় চালু করা উচিত নয়।

কম্পিউটারের মধ্যে নিয়মিত বিদ্যুৎ প্রবাহের ব্যবস্থা

বিদ্যুৎ প্রবাহ হঠাৎ খুব বেড়ে গেলে অথবা হঠাৎ খুব কমে গেলে কম্পিউটারের ক্ষতি হতে পারে।অনিয়মিত বিদ্যুৎ প্রবাহ কম্পিউটারের জন্য অনেক সময় মারাত্বক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এর ফলে কম্পিউটার সংক্রান্ত যন্ত্রাংশ এবং ডিভাইসসমূহ নষ্ট তদুপরি পুড়েও যেতে পারে। এ ধরণের সমস্যা থেকে পরিত্রানের জন্য ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথে কম্পিউটারটির হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে কম্পিউটরের প্রোগ্রামসমূহ যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে তেমনি মূল্যবান কোন তথ্যাবলী সাথে সাথে সেভ না করা হয় তা অবশ্যই মুছে যাবে।

ঘন ঘন কম্পিউটার সুইচ অফ অন করবেন না

অনেক সময় ঘনঘন কম্পিউটার সুইচ অফ অন করার কারণেও কম্পিউটার এর ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। কেননা, ঘন ঘন কম্পিউটার সুইচ অফ অন করলে হঠ্যাৎ ভোল্টেজ বেড়ে গিয়ে কম্পিউটারের মাদারবোর্ডের চিপস নষ্ট হয়ে মাদারবোর্ড অকেজো হয়ে যেতে পারে। তাই কম্পিউটার অফ করে অন করার সময় সামান্য বিরতি দেয়া দরকার।

আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার হার্ডওয়্যার রক্ষণাবেক্ষণ

কম্পিউটার অতি জরুরী একটি যন্ত্র। তাই প্রত্যেক ব্যবহারীরই উচিত আন্তরিকভাবে এই যন্ত্রটির যত্ন নেয়া। কম্পিউটারের বড় শত্রু হলো ধূলা-ময়লা। তাই কম্পিউটারের কাজ শেষ করে মনিটর, সিপিইউ ঠান্ডা হওয়ার পর শুকনো কোনো কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা ভালো। গরম অবস্থায় মনিটর বা সিপিইউ ঢাকা উচিত নয়। বেশি ধূলা-ময়লা থেকে রেহাই পেতে মনিটর কিংবা সিপিইউ-কে জানালার পার্শ্বে না রাখাই উচিত। এ থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রটিকে রক্ষা করা প্রয়োজন।

তাই প্রতিমাসে একবার কম্পিউটারের সব যন্ত্রাংশ পরিষ্কার করতে হবে তবে ময়লা পরিষ্কার কোনো ধরণের কেমিক্যাল (স্পিরিট যুক্ত ক্লিনার ইত্যাদি) ব্যবহার করবেন না এরফলে পিসি যেমন ভাল থাকবে তেমনি দেখাবেও সুন্দর। কোনোক্রমেই যেন কম্পিউটারে আদ্রতা প্রবেশ না করতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। যত্ন নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণঃ
▶ ব্রাশ
▶ নরম কাপড়
▶ গ্লাস ক্লিনার
▶ মার্কার পেন
▶ টুথ পিক।
▶ ব্রোয়ার
▶ টিস্যু পেপার
▶ স্ক্রু ড্রাইভার
▶ কটন বাড
কেসিং ও পাওয়ার সাপ্লাইঃ
প্রথমেই কম্পিউটারের কেসিং এর মধ্যে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করুন। কেসিংয়ের মধ্যেই থাকে কম্পিউটারের সকল যন্ত্রাংশ যা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। পাওয়ার প্লাগটি খুলে কেসিংয়ে হাত দেবেন। কেসিংয়ের একেবারে উপরে থাকা পাওয়ার বক্সটিকে খুলে আনুন। ক্রু ড্রাইভার দিয়ে উপরের অংশটিকে আলাদা করুন। এবার রোয়ার অথবা ব্রাশ দিয়ে সাবধানে ভেতরের ময়লা পরিষ্কার করুন। কুলিং ফ্যানটিকেও পরিষ্কার করুন।

কম্পিউটারের কেসিং এর সাথে সংযুক্ত পাওয়ার সাপ্লাইটি ভালো হওয়া জরুরী। কেননা আমাদের দেশের অনেক এলাকায়ই বিদ্যুৎ খুব বেশি উঠানামা করে যেটি কম্পিউটারের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এজন্য একটি ভালো স্ট্যাবিলাইজার কিংবা ইউপিএস থাকা দরকার। তবে তারচেয়েও জরুরী আরেকটি বিষয় হলো আর্থিং (Earthing) রাখা। কেননা আর্থিং না থাকার কারণে দেখা যায় অনেক সময় কোনো কোনো হার্ডওয়্যার সমস্যা হতে পারে, হার্ডডিস্ক বা মাদারবোর্ড ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারে। তাই একজন ইলেক্ট্রেশিয়ান ডেকে আর্থিং নিশ্চিত করুন। এছাড়া প্রধান পাওয়ার সোর্সে ভালো সার্কিট ব্রেকার রাখুন যা অধিক ভোল্টেজ থেকে আপনার পিসি ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ রক্ষা করবে। সার্কিট ব্রেকারের তার যেন বেশি মোটা (বা বেশি সরু) না হয় যেটা অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে যার ফলে বিদ্যুত খুব বেশি বেড়ে গেলে সঠিকভাবে কাজ করে না।
মাদারবোর্ড ও সংযুক্ত যন্ত্রাংশঃ
মাদারবোর্ড থেকে প্রসেসরের কুলিং ফ্যান, প্রসেসর, এজিপি কার্ড, র‍্যাম, হার্ডডিস্ক ড্রাইভের ক্যাবল, সিডি/ডিভিডি রম ড্রাইভের ক্যাবলসহ অন্যান্য পাওয়ার ও ডাটা ক্যাবল বিচ্ছিন্ন করুন এবং মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করুন কোনটার সঙ্গে কোনটার সম্পর্ক ছিল। এবার প্রতিটি যন্ত্রাংশকে সতর্কতার সাথে ব্রাশ বা ব্লোয়ার দিয়ে পরিষ্কার করুন। র‍্যাম, এজিপি কার্ড ও অন্যান্য কার্ডের সংযোগ অংশের ধারগুলো শুকনো টিস্যু পেপার দিয়ে পরিষ্কার করুন। প্রসেসরের কুলিং ফ্যান ও হিট সিংক পরিষ্কার করুন। এবার মাদারবোর্ডটিকে পরিষ্কার করে যন্ত্রাংশগুলোকে চিহ্নিত অংশের মাধ্যমে সাবধানে সংযোগ করুন। সব ক্যাবল এর সংযোগ নিশ্চিত করুন।
মনিটরঃ
পিসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হচ্ছে মনিটর। কেননা, পিসির অভ্যন্তরস্থ সমুদয় কাজের আউটপুট আপনি পাচ্ছেন, মনিটরের মাধ্যমে। তাই মনিটরের মেইনটেনেন্স কাজ করা জরুরী একটি বিষয়। কিভাবে উক্ত কাজটি করবেন তা আলোচনা করা হলোঃ

প্রথমে আপনার মনিটরের পাওয়ার তথা পিসির পাওয়ার আনপ্লাগ করুন। মনিটরের গ্লাসটিকে গ্লাস ক্লিনার টিস্যুতে লাগিয়ে পরিষ্কার করুন। মনিটরটি ভেজা ভেজা থাকলে তা শুকনো নরম কাপড় কিংবা ন্যাপকিনের সাহায্যে একপাশ থেকে গ্লাস পরিষ্কার করুন। তবে মনিটর গরম থাকা অবস্থায় কোনো ক্লিনিং সলিউশন স্ক্রিণে ব্যবহার করবেন না। এছাড়া ক্লিনিং সলিউশনের দ্রবণ যাতে কোনোভাবে মনিটরের অন/অফ বাটন বা মনিটরের পেছনের ভেন্ট দিয়ে এর অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। আপনার মনিটরটি এলসিডি মনিটর হলে কখনোই গ্লাস ক্লিনার বা ভেজা কোনো কিছু দিয়ে পরিষ্কার করবেন না। শুধুমাত্র শুকনো/আর্দ্র নরম পরিষ্কার কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন।
কী-বোর্ডঃ
পিসির সর্বাধিক ব্যবহৃত অংশগুলোর মধ্যে কী-বোর্ড অন্যতম। এর সঠিক যত্নের জন্য করণীয় হলো-কীবোর্ডের কী এর মধ্যে জমে থাকা ময়লা কটনবাডের সাহায্যে পরিষ্কার করুন। এরজন্য কী-বোর্ডটিকে উপুড় করে ধরে হালকা ঝাকি মেরে কী'র মধ্যে জমে থাকা ময়লাগুলো বের করে ফেলুন।
মাউসঃ
মাউসের ট্র্যাকবলটিকে বের করে দেখবেন ভেতরে দুইটি রোলারের মত দন্ড আছে যা ট্র্যাকবল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এ দুইটি দন্ডে ময়লা জমে শক্ত হয়ে থাকে ফলে মাউস নাড়ালে ঠিকমতো কার্সর নড়ে না। এ দুইটি দন্ডের ময়লা টুথপিকের মাধ্যমে খুঁটিয়ে পরিষ্কার করুন। ট্র্যাকবলটিকে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে আবার লাগিয়ে দিন।

সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেলেও টেবিল ফ্যান চালু করে আধঘন্টা রেখে দিন। কারণ, ভেজা কোনো কিছু থাকলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিমাসে অন্তত একবার সি ড্রাইভ ফরম্যাট করে অপারেটিং সিস্টেম সেটআপ করুন। ফলে আপনি আপনার কম্পিউটারের কাঙ্ক্ষিত গতি পাবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Timeline Treasures নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url