হ্যাকিং শেখার উপায়-হ্যাকিং কিভাবে শিখবো-হ্যাকিং কী-হ্যাকিং কত প্রকার ও কি কি
হ্যাকিং একটি বহুল আলোচিত শব্দ। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে আমরা সবকিছুতেই
ইন্টারনেট নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি। ইন্টারনেটের যে কোন জায়গায় যেমন- ফেসবুক,
জিমেইল, ব্যাংকিং, অনলাইন শপিং, মোবাইল অ্যাপ, ক্লাউড স্টোরেজ, বিশেষ করে সোশ্যাল
মিডিয়ায় যেকোনো ব্যক্তিগত তথ্য বুঝে বা না বুঝে শেয়ার করে থাকি।
হ্যাকিং কি, হ্যাকিং কিভাবে হয়, এ নিয়ে আমরা অনেক মুভি দেখেছি। বর্তমানে
হ্যাকিং শুধু সিনেমা বা টেকনোলজি প্রেমীদের বিষয় নয়, অনলাইন ব্যবহারকারী সকলের
জন্যই হ্যাকিং সম্পর্কে বেসিক এবং পরিষ্কার ধারণা থাকা বাধ্যতামূলক। নিজের
ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষিত রাখার জন্য হ্যাকিং সম্পর্কে জানতে হবে।
হ্যাকিং নিয়ে আমাদের অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে। প্রথমত আমরা অনেকেই হ্যাকিং বলতে
বুঝি ফেসবুক, টিকটক, Instagram বা যে কোন সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টের পাসওয়ার্ড
চুরি করে নেওয়া বা ওয়েবসাইট নষ্ট করে দেওয়া। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, হ্যাকিং এত
ছোট বিষয় নয়। হ্যাকিং বা হ্যাক করা বলতে বোঝায় মূলত, কোন একটি কম্পিউটার
সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, অ্যাপ্লিকেশন অথবা যে কোন ডিজিটাল ডিভাইসের নিরাপত্তা
দুর্বলতাকে খুঁজে বের করে সেটিকে পরীক্ষা করা। এক্ষেত্রে হ্যাকিং এর উদ্দেশ্য
ভালো এবং খারাপ উভয়ই হতে পারে।
হ্যাকিং বা হ্যাক শব্দের অর্থ হলো ‘অন্যায়ভাবে প্রবেশ করা’। এক কথায় মালিকের
অনুমতি ছাড়া কোন ডিজিটাল সিটিভাইসে ভেতরে প্রবেশ করে ডিজিটাল সিস্টেম অথবা কোন
ডিজিটাল ডিভাইস কিভাবে কাজ করে তার সিকিউরিটির দুর্বলতা গুলো খুঁজে বের করার
প্রক্রিয়াকে হয়। ভালো এবং খারাপের দিক বিবেচনা করে হ্যাকিং দুই ধরনের হতে পারে।
একটি উদাহরণের মাধ্যমে এ বিষয়টি পরিষ্কার হওয়া যাক। ধরুন, একটি হাইলি ফাঙ্কশনাল
ওয়েবসাইট রয়েছে।
ওয়েবসাইটিতে ইউজার রেজিস্ট্রেশন এবং লগইন করার সিস্টেম রয়েছে। ওয়েবসাইটের
মালিক কিংবা নিরাপত্তা বিশ্লেষক সেই ওয়েবসাইটের সিকিউরিটি অথেন্টিকেশন কতটুকু
নিরাপদ তা চেক করার জন্য বললেন। এক্ষেত্রে, সিকিউরিটি চেক করার জন্য অবশ্যই
হ্যাকিংয়ের প্রয়োজন। মালিকের অনুমতি নিয়ে সিস্টেম পরীক্ষা করার জন্য যে
হ্যাকিং করা হয় সেটি মূলত ইথিক্যাল হ্যাকিং বা সিকিউরিটি টেস্টিং এর অংশ।
অন্যদিকে, একই কাজ যদি মালিকের অনুমতি ছাড়া করা হয় বা মালিকের অনুমতি ছাড়া কোন
সার্ভার, একাউন্ট বা সিস্টেমে প্রবেশ করা হয় তাহলে সেটি বেআইনি ও ক্ষতি করো হতে
পারে। এক্ষেত্রে আপনার উদ্দেশ্য খারাপ না হলেও যেহেতু আপনি মালিকের অনুমতি নেননি
সেহেতু এটি বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
তাই, হ্যাকিং শেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- নিজের সিস্টেম বা
কর্তৃপক্ষের বা মালিকের স্পষ্ট অনুমতি আছে এর এমন সিস্টেম ছাড়া অন্য কোন রিয়েল
টার্গেট বা সিস্টেম বা ডিভাইসে পরীক্ষা চালানো উচিত নয়।
হ্যাকিং কত প্রকার?
বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে হ্যাকিং এর শ্রেণীবিভাগ করা যায়। তবে এগুলোর মধ্যে
সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো হ্যাকিংয়ের উদ্দেশ্য। ভালো এবং খারাপ উভয়
উদ্দেশ্যে হ্যাকিং করা যায় বা হয়ে থাকে।
এক্ষেত্রে হ্যাকিং এর প্রকারভেদ গুলো নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।
১. White Hat Hacker:
হোয়াইট হ্যাট হ্যাকারদেরকে ইথিকাল হ্যাকার বা সিকিউরিটি প্রফেশনাল বলা হয়।
প্রকৃতপক্ষে, ইথিক্যাল হ্যাকাররা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তাদের সিস্টেম,
ওয়েবসাইট অথবা যেকোনো অ্যাপ্লিকেশন এর সিকিউরিটির দুর্বলতা গুলো খুঁজে বের করেন।
এই হ্যাকাররা যেহেতু কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে হ্যাকিং কাজ সম্পন্ন করেন তাই
এদেরকে ইথিক্যাল হ্যাকার বলা হয়।
ইথিক্যাল হ্যাকারদের বৈশিষ্ট্যঃ
সিকিউরিটির দুর্বলতা খুঁজে বের করা।
দুর্বলতা থাকলে সেই ঝুঁকি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানানো।
সিস্টেমকে আরো শক্তিশালী ও নিরাপদ করা।
ডেটা লঙ্ঘন (Data breach) প্রতিরোধ করা।
দিন দিন অনলাইনে মানুষের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন
ব্যবসা-বাণিজ্য সরকারি, বেসরকারি বা নন প্রফিটেবল অর্গানাইজেশন এদের অনলাইন
উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই, বর্তমানে সাইবার সিকিউরিটি ইন্ডাস্ট্রি গুলোতে
সিকিউরিটি প্রফেশনাল বা এই ধরনের দক্ষতার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
২. Black Hat Hacker:
বর্তমানে ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিং একটি গ্লোবাল সমস্যায় পরিনত হয়েছে। ব্ল্যাক হ্যাট
হ্যাকিং দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকিংকে বন্ধ করা প্রায় কঠিন
হয়ে পড়েছে। ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকাররা, ম্যালেসিয়াস হ্যাকার বা আন-ইথিকাল হ্যাকার
নামে পরিচিত। কারণ এই হ্যাকাররা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে তাদের
কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক বা সিস্টেমে প্রবেশ করে থাকে। ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারদের
উদ্দেশ্য গুলো হলঃ
একাউন্ট কম্প্রোমাইজ করা।
অর্থনৈতিক জালিয়াতি।
ম্যালওয়ার ছড়ানো।
নেটওয়ার্ক বা সিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করা।
র্যানসাম ওয়ার অ্যাটাক।
ব্ল্যাকমেইলিং।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচুরি এবং ব্ল্যাক মার্কেটে বিক্রি।
অর্থ উপার্জন।
যেহেতু black hat hacking যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই হ্যাকাররা চুপিসারে
করে থাকে তাই এই হ্যাকিং বেআইনি এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। এই হ্যাকিং এর ফলে
ব্যবহারকারীর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্যের হাতে চলে যেতে পারে।
৩. Grey Hat Hacker:
গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা সাধারণত হোয়াইট হ্যাট এবং ব্ল্যাক হ্যাট এর মাঝামাঝি
পর্যায়ে থাকে। গ্রে হ্যাট হ্যাকারদের উদ্দেশ্য কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক, সিস্টেম
বা ওয়েবসাইটে দুর্বলতা খুঁজে বের করা। হ্যাকারদের উদ্দেশ্য ভালো হলেও এরা যথাযথ
কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তাদের সিস্টেম, নেটওয়ার্ক, কম্পিউটার পরীক্ষা করে
থাকে। গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা, ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারদের মতো কম্পিউটার নেটওয়ার্ক
বা সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধনের কাজে ব্যবহার করে
না। গ্রে হ্যাট হ্যাকাররা দুর্বলতা খুঁজে পেয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ইনফর্ম করে
তাদের সাইবার সিকিউরিটি উন্নত করার জন্য। কিন্তু, যেহেতু গ্রে হ্যাট
হ্যাকাররা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তাদের কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, সিস্টেম এর
দুর্বলতা খুঁজে বের করার চেষ্টা করে তাই এটি অনৈতিক এবং বেআইনি।
আরও কিছু পরিচিত ধারণাঃ
হ্যাকিং বা সাইবার সিকিউরিটি জগতে আরো কিছু পরিচিত টার্ন রয়েছে। সেই টার্মগুলো
নিচে সংক্ষেপে বোঝানোর চেষ্টা করা হলোঃ
Script Kiddie:
স্ক্রিপ্ট কিডেল এক ধরনের অপরিপক্ক সাইবার এটাক। যারা সাধারণত আগে থেকে অন্যের
তৈরি করা বিভিন্ন ধরনের অটোমেটিক হ্যাকিং টুলস, প্রোগ্রাম, স্ক্রিপ্ট ব্যবহার করে
সাইবার এ্যাটাক পরিচালনা করে। এ ধরনের হ্যাকারদের গভীর টেকনিক্যাল জ্ঞান নাই অথবা
তারা নেটওয়ার্ক সিস্টেম কিভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে ভালো জানেনা।
Hacktivist:
“হ্যাকটিভিস্ট” শব্দকে ভাঙলে দুটি পৃথক শব্দ পাওয়া যায়। একটি হলো “হ্যাকিং”
অপরটি “একটিভিস্ট”। এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে “হ্যাকটিভিস্ট” শব্দটি।
যে সকল ব্যক্তি কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্ক অথবা হ্যাকিং এর মাধ্যমে কোন
রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিবর্তন আনতে চেষ্টা করে তাদেরকে “হ্যাকটিভিস্ট” বলা
হয়। হ্যাকটিভিজম কে এক ধরনের অনলাইন, ইন্টারনেট আন্দোলন বলা যেতে পারে।
Security Researcher:
সিকিউরিটি রিসার্চার বা নিরাপত্তা গবেষকরা কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের
দুর্বলতা এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণা করে।
Penetration Tester:
পেনিট্রেশন টেস্টার (বা পেন টেস্টার) হলো এক ধরনের হোয়াইট হ্যাট হ্যাকার বা
ইথিক্যাল হ্যাকার। এই হ্যাকাররা কম্পিউটার সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের সুরক্ষার জন্য
সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করার জন্য নেটওয়ার্ক বা সিস্টেমের ওপর নিরাপদ ও
অনুমোদিত সাইবার আক্রমণ পরিচালনা করে থাকেন। তারা সিস্টেম বা কম্পিউটার
নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা দুর্বলতা খুঁজে বের করেন কারণ ম্যালিসিয়াস বা ব্ল্যাক
হ্যাট হ্যাকাররা এই ধরনের লূপ-হোল বা নিরাপত্তা জনিত ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করে
সেগুলোর সুযোগ নিতে না পারে এবং অসৎ উদ্দেশ্যে ভাইবার আক্রমণ করে থাকে। তারা যে
ধরনের কাজগুলো করে সেগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ
ক্লাউড সেটআপ, ওয়েব অ্যাপ এবং হার্ডওয়্যারের ওপর কৃত্রিম বা পরীক্ষামূলক
আক্রমণ চালানো।
ভুয়া ফিশিং ইমেইল পাঠিয়ে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা সচেতনতা যাচাই করা।
কীভাবে সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করা সম্ভব হলো ও সেই ত্রুটি কীভাবে সমাধান করা
যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করা।
হ্যাকিং শেখার উপায়
তাহলে প্রশ্ন হলো হ্যাকিং শেখার উপায় কি, কিভাবে হ্যাকিং শিখবো। এখানে একটা মজার
বিষয় রয়েছে, অনেকেই আছেন যারা হ্যাকিং শেখার উপায় বা হ্যাকিং কিভাবে শিখব তা
জানতে ইউটিউব সার্চ করেন। তারা “How to hack Facebook”, “Wi-Fi password hack” বা
“Hack any website” বিভিন্ন কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করে থাকেন। সেক্ষেত্রে হ্যাকিং
শেখার উপায় হিসেবে বিভিন্ন ধরনের টিউটোরিয়াল ভিডিও আসে।
সেই ভিডিওগুলো দেখে অনেকে হ্যাকিং শেখার চেষ্টা করেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো
ভিডিও দেখে সবকিছু শেখা যায় না, সম্ভাব্যও নয়। ভিডিও দেখে আপনি হয়তো জানতে
পারেন কোন টুল কিভাবে কাজ করে কিন্তু সাইবার সিকিউরিটি কি সেটা বোঝা অন্য বিষয়।
আপনি যদি একজন দক্ষ ইথিক্যাল হ্যাকার হতে চান, তাহলে আপনাকে প্রথমে কিছু বিষয়
বুঝতে হবে। যেমন- Computer কীভাবে কাজ করে → Network কীভাবে কাজ করে → Operating
System কীভাবে কাজ করে → Web কীভাবে কাজ করে → Security কীভাবে কাজ করে → তারপর
security testing। এখানে হ্যাকিং শেখার উপায় হিসেবে শুধুমাত্র Roadmap দেওয়া হলো।
ইথিক্যাল হ্যাকিং শেখার উপায় ও Roadmap
ইথিক্যাল হ্যাকিং শেখার জন্য বেশ কিছু ধাপ রয়েছে। ইথিক্যাল হ্যাকিং শেখার রোড
ম্যাপ সংক্ষেপে এখানে আলোচনা করা হলো।
ধাপ ১ঃ Computer Fundamentals
প্রথমেই আপনাকে কম্পিউটারের বেসিক বা ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিষ্কার
এবং বিস্তর ধারণা থাকতে হবে। কম্পিউটারের বেসিক বা ফান্ডামেন্টাল বিষয়গুলোর
মধ্যে রয়েছে-
CPU, RAM, Storage কি, কিভাবে কাজ করে।
Operating System কি, কিভাবে কাজ করে।
Files এবং directories কি, কিভাবে কাজ করে।
Processes কি, কিভাবে কাজ করে।
Users এবং permissions কি।
Applications কীভাবে কাজ করে।
Client এবং server এর ধারণা।
Windows ব্যবহার করলেও হবে। তবে সাইবার সিকিউরিটি শেখার সময় Linux-এর সঙ্গে
পরিচিত হওয়া খুবই উপকারী।
ধাপ ২ঃ Linux শেখা
হ্যাকিং শেখার অন্যতম ধাপ হল লিনাক্স শেখা। আপনি যদি একজন সাইবার সিকিউরিটি
এক্সপার্ট হতে চান সে ক্ষেত্রে আপনার লিনাক্স শেখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত
আপনাকে লিনাক্স এর বেসিক কমান্ড এবং সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে জানতে হবে।
হ্যাকিং শেখার জন্য আপনি নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানতে পারেন।
File system
Users
Permissions
Processes
Package management
Terminal
Environment variables
Basic shell scripting
লিনাক্স এর নাম শুনে আপনারা হয়তো অনেকেই ভাবতে পারেন Kali Linux শিখতে হবে।
কিন্তু হ্যাকিং শেখার জন্য একজন বিগিনার হিসেবে শুধু Kali Linux ইনস্টল করেই আপনি
হ্যাকার হতে পারবেন না। Kali হলো একটি security-focused Linux distribution;
cybersecurity-এর foundation নয়।
ধাপ ৩: Networking শেখা
হ্যাকিং শেখার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো নেটওয়ার্কিং সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান
রাখা। নেটওয়ার্কিং শেখা, সাইবার সিকিউরিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাইবার
সিকিউরিটির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো নেটওয়ার্কিং শেখা। নেটওয়ার্কিং
শেখাকে আপনি সাইবার সিকিউরিটির ফাউন্ডেশন বলতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাকে নিচের
বিষয়গুলো সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা থাকতে হবে।
IP address
MAC address
DNS
DHCP
TCP/IP
TCP বনাম UDP
Ports
HTTP/HTTPS
Routers
Firewalls
NAT
VPN
Client-server architecture
নেটওয়ার্কিং এর বিষয় পরিষ্কার হওয়ার জন্য চলুন একটি উদাহরণ দেখা যাক। ধরুন,
আপনি আপনার মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে যেকোনো একটি ওয়েবসাইট ওপেন
করলেন। একটি ওয়েবসাইট ওপেন হওয়ার সাথে সাথে আপনার ডিভাইসের স্ক্রিনে শুধুমাত্র
ওয়েবসাইট টাই ওপেন হয় না, নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রটোকল ব্যবহার করে
সার্ভারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। একটি ওয়েবসাইট একটি সার্ভারেস্ট অবস্থায়
থাকে, এটি কিভাবে আপনার ডিভাইসে আসে, এই কমিউনিকেশন কিভাবে হয়, আপনি যদি সেটি
বুঝতে পারেন তাহলে আপনার পক্ষে সাইবার সিকিউরিটির বিষয়গুলো বোঝা অনেক সহজ হবে।
ধাপ ৪ঃ Programming এবং Scripting ল্যাঙ্গুয়েজ শেখা
সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট বা ইথিক্যাল হ্যাকার হওয়ার জন্য আপনাকে ৫, ১০ বা ২০
টি প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ জানতে হবে না বা জানার প্রয়োজনও নেই। প্রথমত আপনি
ভালোভাবে যেকোনো একটি scripting language শিখু, যেমন- পাইথন (Python)। হ্যাকিং
শেখা বা সাইবার সিকিউরিটি শেখার জন্য পাইথন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হেল্পফুল।
এক্ষেত্রে আপনি নিজের বিষয়গুলো শিখতে পারেন।
Variables
Conditions
Loops
Functions
Lists এবং dictionaries
Files
Exceptions
Modules
Basic networking concepts
APIs
এগুলো ভালোভাবে শেখা হয়ে গেলে আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী Bash, JavaScript, SQL
ইত্যাদি শিখতে পারেন।
ধাপ ৫ঃ Web Technology শেখা
হ্যাকিং শেখার পরবর্তী ধাপ হলো ওয়েব টেকনোলজি শেখা। ওয়েব টেকনোলজি বলতে
ওয়েবসাইট বা ওয়েব এপ্লিকেশন কে বোঝানো হয়েছে। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে
ইন্টারনেটের একটি বিশাল অংশ ওয়েবসাইট বা ওয়েব এপ্লিকেশন এর ওপর নির্ভরশীল। তাই
আপনি যদি হ্যাকিং শিখতে চান বা একজন সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট হতে চান তাহলে
আপনার ওয়েব টেকনোলজির পেছনের অংশ, বিশেষ করে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এর বেসিক ও
ফান্ডামেন্টাল জিনিসগুলো জানা দরকার। একটি ওয়েবসাইটের পেছনে কি রয়েছে, একটি
ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি করা হয়, কিভাবে পরিচালিত হয়, এই বিষয়গুলো না জানলে
আপনার পক্ষে হ্যাকিং শেখা কঠিন হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আপনি নিচের বিষয় গুলো শিখতে
পারেন।
HTML
CSS
JavaScript
HTTP
Cookies
Sessions
Authentication
Authorization
APIs
Databases
SQL
Frontend বনাম backend
আপনি যদি না জানেন বা না বুঝেন একটি ওয়েবসাইট কিভাবে তৈরি হয়, তাহলে আপনার
পক্ষে ওয়েবসাইট সিকিউরিটি বোঝা অনেক কঠিন হয়ে যাবে। যে কোন জিনিসের ক্ষেত্রে
এটি প্রযোজ্য। একটি জিনিস কিভাবে তৈরি হয়, কিভাবে পরিচালিত হয়, সেটা না জানা
থাকলে আপনি তার সিকিউরিটি দেয়া মুশকিল হয়ে যাবে বা দিতে পারবেন না।
ধাপ ৬ঃ Cybersecurity Fundamentals
এখন আপনাকে শিখতে হবে সাইবার সিকিউরিটি ফান্ডামেন্টাল এর যে বিষয়গুলো
রয়েছে সেগুলো।
Cybersecurity Fundamentals হলো কম্পিউটার, মোবাইল, নেটওয়ার্ক ও অনলাইন তথ্যকে
সাইবার আক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখার প্রাথমিক জ্ঞান। এতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড
ব্যবহার, ফিশিং থেকে সতর্ক থাকা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়গুলো যুক্ত
রয়েছে। আপনি যদি আপনার অনলাইন জার্নিতে নিরাপদ থাকতে চান কিংবা আপনি হ্যাকিং
শিখতে চান সেক্ষেত্রে সাইবার সিকিউরিটি ফান্ডামেন্টাল জিনিসগুলো আপনাকে জানতে
হবে। এক্ষেত্রে আপনি নিচের বিষয় গুলো শিখতে পারেন।
CIA Triad
Confidentiality — তথ্য যেন অননুমোদিত ব্যক্তি দেখতে না পারে।
Integrity — তথ্য যেন অননুমোদিতভাবে পরিবর্তন না হয়।
Availability — প্রয়োজনের সময় system যেন available থাকে।
এর পাশাপাশি শিখুন:
Authentication
Authorization
Encryption
Hashing
Digital certificates
Access control
Security policies
Vulnerability
Threat
Risk
Security monitoring
ধাপ ৭ঃ Common Web Security Risks
Common Web Security Risks বলতে ওয়েবসাইট ও অনলাইন সিস্টেমে থাকা সাধারণ
নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিকে বোঝায়। ঝুঁকি গুলোর মধ্যে রয়েছে ফিশিং, দুর্বল পাসওয়ার্ড,
ম্যালওয়্যার, SQL Injection এবং Cross-Site Scripting (XSS) অন্যতম। হ্যাকিং
শেখার জন্য বা ওয়েবসাইট ও ব্যক্তিগত তথ্য আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য
আপনাকে এগুলো জানতে হবে। তাই, Web security শেখার সময় বিভিন্ন ধরনের
vulnerability সম্পর্কে ধারণা নিন। এক্ষেত্রে আপনি নিচের বিষয় গুলো শিখতে পারেন।
Injection
Broken authentication
Broken access control
Security misconfiguration
Cross-site scripting (XSS)
Insecure file handling
Sensitive data exposure
Session-related weaknesses
এগুলো কেন শিখবেন বা আপনার এই বিষয়গুলো কেন শেখা উচিত এর প্রধান উদ্দেশ্য
নিরাপত্তার দুর্বলতা গুলো চেনা এবং কিভাবে সিস্টেম নেটওয়ার্ক বা কম্পিউটারকে
নিরাপদ রাখা যায় কিন্তু একটি বিষয় মনে রাখবেন কখনোই কারো অনুমতি ছাড়া পরীক্ষা
করার উদ্দেশ্যে অন্যের ওয়েবসাইট বা সিস্টেমকে ব্যবহার করবেন না। বরং, নিজের
laboratory বা intentionally vulnerable training environment ব্যবহার করুন।
ধাপ ৮ঃ নিজের Cybersecurity Lab তৈরি করুন
হ্যাকিং শেখার জন্য নিজের সাইবার সিকিউরিটি ল্যাব তৈরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ আপনি
চাইলে নিজের কম্পিউটারে ভার্চুয়াল মেশিন ব্যবহার করে একটি isolated learning
environment তৈরি করতে পারেন।
আপনার নিজের সাইবার সিকিউরিটি ল্যাবে কি কি থাকতে পারে সেগুলো জেনে নেওয়া
যাক।
একটি basic lab-এ থাকতে পারেঃ
Your computer → Virtualization → Linux machine → Practice environment
নিজের Cybersecurity Lab-এ খুব সহজ ও নিরাপদভাবে Linux, networking, web security
এবং defensive security concepts পরীক্ষা করতে পারবেন। এভাবে হ্যাকিং শেখার
সুবিধা হলো—আপনি কোথাও ভুল করলেও অন্য মানুষের সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি
থাকে না।
ধাপ ৯ঃ Capture The Flag বা CTF
Cybersecurity শেখার জন্য CTF খুব জনপ্রিয়। Capture The Flag বা CTF হলো সাইবার
সিকিউরিটি শেখার একটি জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা ও অনুশীলন পদ্ধতি। এতে বিভিন্ন ধরনের
নিরাপত্তা সমস্যা সমাধান করে লুকানো “Flag” খুঁজে বের করতে হয়। আপনি এর মাধ্যমে
আপনার নিজের হ্যাকিং, ওয়েব সিকিউরিটি, ক্রিপ্টোগ্রাফি এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা
বাড়াতে পারেন। CTF-এ সাধারণত বিভিন্ন সিকিউরিটি চ্যালেঞ্জ দেওয়া হয় এবং আপনাকে
সমস্যাগুলো সমাধান করে নির্দিষ্ট objective অর্জন করতে হয়। CTF-এর মাধ্যমে আপনি
শিখতে বা অনুশীলন করতে পারেনঃ
Linux
Networking
Web security
Cryptography
Programming
Forensics
Security analysis
এগুলো একটি গেম বা পাজলের মত। পাজল গেমে আপনি যেমন পাজল সলভ করে একটি স্কোর অর্জন
করেন, এখানে বিষয়টা সেই রকমের। এর সবচেয়ে ভালো দিক হলো এগুলো লার্নিং
এনভাইরনমেন্ট হিসেবে তৈরি করা থাকে।
ধাপ ১০ঃ Defensive Security শিখুন
Defensive Security হলো সাইবার নিরাপত্তার এমন একটি অংশ, যেখানে কম্পিউটার,
নেটওয়ার্ক ও ডেটাকে সাইবার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার কাজ করা হয়। Defensive
Security-এর মধ্যে ফায়ারওয়াল, অ্যান্টিভাইরাস, নিয়মিত আপডেট এবং নিরাপত্তা
পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। এর মূল লক্ষ্য হলো আক্রমণ শনাক্ত করা, প্রতিরোধ করা এবং
সিস্টেমকে নিরাপদ রাখা।
সাইবার আক্রমন কিভাবে কাজ করে শুধু এটা জানলে আপনি একজন সিকিউরিটি প্রফেশনাল হতে
পারবেন না। আপনি যদি হ্যাকিং শিখতে চান বা একজন ইথিক্যাল হ্যাকার হতে চান তাহলে
আপনাকে জানতে হবে সাইবার অ্যাটাক কিভাবে হয়, সাইবার এটাক শনাক্ত কিভাবে করতে হয়
এবং সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ করার উপায় গুলো কি কি। এক্ষেত্রে আপনি নিচের
বিষয়গুলো শিখতে পারেন।
Logs
Monitoring
Endpoint security
Network security
Firewalls
Incident response
Malware concepts
Backup strategy
Access management
Security awareness
উপরের বিষয়গুলো শেখার মাধ্যমে সাইবার সিকিউরিটির অপর একটি বড় ক্ষেত্র —Blue
Team / Defensive Security—শুরু হয়।
ভালো ইথিক্যাল হ্যাকার হওয়ার লক্ষ্য
হ্যাকিং শেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ইথিক্স বা নীতি নৈতিকতা। আপনি যদি একজন
ভালো ইথিক্যাল হ্যাকার হতে চান তাহলে আপনার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নিম্নরূপ হওয়া
উচিত।
“আপনি কীভাবে system ভাঙবেন?”—এর পাশাপাশি “কি কারণে System vulnerable হলো
এবং কিভাবে System-কে আরও secure করা যায়?”
এই লক্ষ ও উদ্দেশ্য নিয়েই যদি শেখা শুরু করেন, তাহলে hacking-এর প্রতি শুধু
কৌতুহল থাকবে না—ধীরে ধীরে cybersecurity, ethical hacking, penetration testing,
security research বা defensive security-এর মতো professional career-এর দিকেও
এগিয়ে যেতে পারবেন। পরিষ্কার রোডম্যাপটা এই রকম হতে পারে-
Computer → Linux → Networking → Python → Web → Security Fundamentals → Web
Security → Labs/CTF → Defensive Security → Ethical Hacking।
এটাই অনেক বেশি বাস্তবসম্মত এবং নিরাপদভাবে হ্যাকিং শেখা বা সাইবার সিকিউরিটি
শেখার পরিস্কার পথ।
ইথিক্যাল হ্যাকার হতে কতদিন লাগতে পারে?
একজন ইথিক্যাল হ্যাকার হতে বা হ্যাকিং শিখতে কতদিন সময় লাগতে পারে এই প্রশ্নের
নির্দিষ্ট কোন উত্তর নেই। প্রতিটি জিনিসের ক্ষেত্রেই একই রকম উত্তর হয়ে থাকে। কত
সময় লাগতে পারে তা নির্ভর করে আপনার নিজের উপর। সেই বিষয়ে সম্পর্কে প্রয়োজনীয়
জিনিসগুলোর উপর আপনার কতটুকু বেসিক ধারণা রয়েছে কিংবা প্রতিটি বিষয় আপনি কত
দ্রুত শিখতে পারছেন বা আপনার মেমোরিতে থাকছে এগুলোর উপর নির্ভর করে আপনার শেখার
সময় কত লাগতে পারে। তবে আপনি যদি একজন বিগিনার লেভেলের মানুষ হয়ে থাকেন তাহলে
প্রথম কয়েক মাস ফান্ডামেন্টাল বা ফাউন্ডেশন তৈরি করার কাজে লাগানো সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ। তবে একাট বাস্তবসম্মত learning sequence নিম্নরুপ হতে পারেঃ
Computer Fundamentals
↓
Linux
↓
Networking
↓
Python / Programming
↓
Web Technology
↓
Cybersecurity Fundamentals
↓
Web Security
↓
Security Labs / CTF
↓
Defensive Security
↓
Penetration Testing / Security Research
প্রাথমিক পর্যায়ে আপনি যদি উপরের সিকুয়েন্স অনুযায়ী শেখা শুরু করেন তাহলে আপনি
শুধু হ্যাকিং টুলস কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটি শিখবেন না বরং একটি সিস্টেম,
কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কের দুর্বলতা কিভাবে তৈরি হয়, কেন তৈরি হয়, কিভাবে সেই
দুর্বলতা সনাক্ত করা যায় এবং সেই দুর্বলতা কিভাবে ফিক্স বা দূর করা যায় সেই
জিনিসগুলো বুঝতে পারবেন।
Hacking শেখার সময় যে ভুলগুলো করবেন না
Hacking শেখার আগ্রহ অনেকের মধ্যেই রয়েছে বা থাকে। কিন্তু, শুরুতেই কিছু সাধারণ
ভুল শেখার গতি কমিয়ে দিতে পারে। তাই সঠিক নিয়ম ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করে
Hacking শেখা জরুরি। এক্ষেত্রে Hacking শেখার সময় নিচের ভুলগুলো কখনই করবেন না।
❌ অন্যের Facebook account hack করার চেষ্টা করবেন না।
❌ অনুমতি ছাড়া website বা server পরীক্ষা করবেন না।
❌ কারও Wi-Fi password ভাঙার চেষ্টা করবেন না।
❌ Malware তৈরি বা ছড়িয়ে practice করবেন না।
❌ Stolen credentials দিয়ে login করে “practice” করবেন না।
❌ Random internet target-এ scanning বা testing করবেন না।
এর পরিবর্তে নিজের lab, CTF এবং অনুমোদিত training environment ব্যবহার করুন।
শেষ কথা
হ্যাকিং শেখার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কালি লিনাক্স ইনস্টল করা বা টার্মিনাল ওপেন করে
কোন একটা কমান্ড লেখা শিখলেই হ্যাকিং শেখা হয়ে যায় না। আপনি যদি হ্যাকিং শিখতে
চান বা একজন প্রকৃত ইথিক্যাল হ্যাকার হতে চান তাহলে আপনাকে computer science,
networking, operating system, programming, web technology এবং security
concepts-এর foundation জানতে হবে।আপনি যদি সঠিকভাবে ও নৈতিকতার সঙ্গে Hacking
শিখতে পারেন তাহলে এটি সাইবার নিরাপত্তায় দক্ষতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ
মাধ্যম হতে পারে। ধৈর্য ধরে নিয়মিত অনুশীলন এবং আইন মেনে শেখার মাধ্যমে আপনি ধীরে
ধীরে এই ক্ষেত্রে ভালো দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসাঃ
হ্যাক অর্থ কি?
ইংরেজি Hack শব্দের অর্থ হলো অন্যায় প্রবেশ। অর্থাৎ, কর্তৃপক্ষ বা মালিকের অনুমতি ছাড়া কোনো কম্পিউটার, নেটওয়ার্ক বা সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বের করা বা সিস্টেমে প্রবেশ করাকে বোঝায়।
হ্যাকারদের কাজ কি?
হ্যাকারের কাজ হলো কোন কম্পিউটার, সিস্টেম বা নেটওয়ার্কের দুর্বলতা শনাক্ত করে খুঁজে বের করা এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করে কম্পিউটার, ওয়েবসাইট বা সিস্টেমকে নিরাপত্তা প্রদান করা। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, হ্যাকিং দুই ধরনের হতে পারে, ভালো কাজের জন্য হ্যাকিং এবং খারাপ কাজের জন্য হ্যাকিং।
ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখতে কি কি লাগে?
Computer networking, Linux, programming, web security এবং cybersecurity সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।
ইথিক্যাল হ্যাকিং শিখতে কত সময় লাগে?
সাধারণত, বেসিক শিখতে প্রায় ৩–৬ মাস এবং ভালো দক্ষতা অর্জনে ১–২ বছর সময় লাগতে পারে। তবে, ইথিক্যাল হ্যাকিং শেখা বা যে কোন হ্যাকিং শিখতে নির্দিষ্ট ঠিক কত সময় লাগবে এটা বলা অনিশ্চিত। ইথিক্যাল হ্যাকিং শেখা কত সময় লাগবে এটি নির্ভর করবে আপনার ইচ্ছা শক্তি এবং আপনি কত দ্রুত শিখতে পারছেন এবং ধরে রাখতে পারছেন তার উপর।
হ্যাকার হতে কি কি লাগে?
হ্যাকার হতে হলে আপনার Computer, networking, programming, Linux, cybersecurity এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। তবে মনে রাখবেন, আইনসম্মত ও নৈতিকভাবে শেখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Timeline Treasures নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url