কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ - কম্পিউটারের কার্যপ্রণালী

আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে বসবাস করছি। বিজ্ঞানের বিষয়ক আবিষ্কার গুলোর মধ্যে কম্পিউটার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কম্পিউটারের ব্যবহার রয়েছে। তাই আমাদের কম্পিউটার সম্পর্কে জ্ঞান থাকা উচিত।
কম্পিউটারের প্রকারভেদ ও শ্রেণীবিভাগ - কম্পিউটারের কার্যপ্রণালী
আজকের এই নিবন্ধে কম্পিউটার কি, কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে এবং কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ সম্পর্কে আলোচনা করা হবে।

সূচিপত্রঃ- কম্পিউটারের প্রকারভেদ ও শ্রেণীবিভাগ - কম্পিউটারের কার্যপ্রণাল

ভুমিকাঃ

কম্পিউটার এমন একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস যা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং এর ভাষা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এবং এর যন্ত্রটি ক্রমান্বয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ধারাবাহিক গাণিতিক এবং লজিক্যাল অপারেশন সম্পন্ন করে দ্রুতগতি, বিশ্বাসযোগ্যতা, সূক্ষ্মতা, ক্লান্তী হীনতা, তথ্য সংরক্ষণের ক্ষমতা, যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত, স্বয়ংক্রিয়তা এবং কাজের দক্ষতা ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের জন্য কম্পিউটার আধুনিক মানবজাতির জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কম্পিউটার কাকে বলেঃ

কম্পিউটার শব্দটি গ্রিক শব্দ কম্পিউট (compute) থেকে এসেছে। কম্পিউটার শব্দের অর্থ গণনা করা। কম্পিউটার অর্থ গণনাকারী যন্ত্র। কম্পিউটারের মাধ্যমে অনেক তথ্য ও উপাত্ত অল্প সময়ে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদান, আউটপুট প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করা যায়।
কম্পিউটারের মাধ্যমে সিনেমা দেখা, গেম খেলা, গান শোনা, তথ্যের আদান-প্রদান, জটিল থেকে জটিলতর হিসাব নিকাশ খুব দ্রুত এবং সহজে করা সম্ভব।

কম্পিউটারের কার্যপ্রণালীঃ

কম্পিউটার প্রধানত বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে কাজ করে থাকে। বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিতে ২ টি বেস রয়েছে। বেশ দুটি হলো ০ ‘শূন্য’ এবং ১ ‘এক’। এই দুইটি বেস ব্যবহার করে কম্পিউটার তার যাবতীয় কাজকর্ম করে থাকে। এই বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতিকে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ বা নিম্নমানের ল্যাঙ্গুয়েজ বলা হয়।

কম্পিউটার কীভাবে কাজ করেঃ

কম্পিউটার প্রধানত ৩ টি প্রসেসের মাধ্যমে কাজ করে থাকে। প্রথমে কম্পিউটার ব্যবহারকারীর নির্দেশনা কে গ্রহণ করে। তারপর নির্দেশনা অনুযায়ী ডাটা গুলোকে প্রক্রিয়াকরণ করে এবং সর্বশেষ আউটপুট হিসেবে সেই তথ্য বা ডাটা মনিটরে প্রদর্শন করে।

প্রসেস ৩ টি হল-

(১) ইনপুট (Input)ঃ
ব্যবহারকারী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কম্পিউটার কে দিয়ে থাকেন।
ইনপুট ডিভাইসের উদাহরণঃ কিবোর্ড, মাউস, টাচপ্যাড, টাচ স্ক্রিন, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ইত্যাদি
(২) প্রক্রিয়াকরণ (Processing)ঃ
কম্পিউটার ব্যাবহার গাড়ির নির্দেশনা অনুযায়ী ডাটা গুলোর প্রক্রিয়াকরণ সম্পূর্ণ করে। কম্পিউটারের যে অংশ এ কাজটি করে তাকে প্রসেসর বলে।
কয়েকটি প্রসেসরের উদাহরণঃ
  • AMD Ryzen 9 5950X
  • Intel Core i9-10900K Processor
  • AMD Ryzen 9 5900X
  • Intel Core i9-10850K Processor
  • AMD Ryzen Thread ripper 3960X
  • Intel Core i7-10870H Processor
(৩) আউটপুট (Output)ঃ
এটা প্রক্রিয়াকরণ শেষে কম্পিউটার আউটপুট হিসেবে ডেটা গুলো ব্যবহারকারীর সামনে প্রদর্শন করে।
আউটপুট ডিভাইস যেমন – মনিটর, স্পিকার, প্রিন্টার ইত্যাদি।

কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রঃ

  • গবেষনা কাজে।
  • চিকিৎসা কাজে।
  • শিক্ষার ক্ষেত্রে।
  • শিল্প কারখানায় উৎপাদনমূলক কাজে।
  • কৃষি ক্ষেত্রে।
  • নিরা পত্তার কাজে।
  • অন্যান্য ।

কম্পিউটারের প্রকারভেদ বা শ্রেণীবিভাগঃ

গঠন ও কার্যনীতির ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার কে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
(১) এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer)
(২) ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer)
(৩) হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer)

এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer)ঃ
Analog কথাটি এসেছে Analogy শব্দ থেকে, যার অর্থ সাদৃশ্য। যে কম্পিউটার একটি রাশি কে অপর একটি রাশির সাপেক্ষে পরিমাপ করে তাকে এনালগ কম্পিউটার বলে।
বৈশিষ্ট্যঃ
(১) এনালগ কম্পিউটার কাজ করে এনালগ সংকেতের মাধ্যমে।
(২) সাধারণত কাটা বা প্লাটারের মাধ্যমে প্রদান করে।
(৩) এক এক ধরনের কাজের জন্য এক এক ধরনের এনালগ কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। এক ধরনের কাজের জন্য তৈরিকৃত কম্পিউটার দিয়ে অন্য ধরনের কাজ করা যায় না। যেমন-তাপ মাপার জন্য তৈরি এনালগ কম্পিউটার দিয়ে চাপ মাপার কাজ করা যায় না।
(৪) কাজের সুক্ষতা কম।
উদাহরণঃমোটর গাড়ির স্পিডোমিটার, পাইড রুল, অপারেশনাল এমপ্লিফায়ার ইত্যাদি।
ডিজিটাল (Digital) শব্দের উৎপত্তি হয়েছে ডিজিট (Digit) শব্দ থেকে। যে কম্পিউটার সংখ্যা ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে তাকে ডিজিটাল কম্পিউটার বলে।
বৈশিষ্ট্যঃ
(১) ডিজিটাল কম্পিউটার কাজ করে সংখ্যা প্রক্রিয়াকরণের ভিত্তিতে।
(২) সব ধরনের কাজের প্রক্রিয়াকরণ সম্পন্ন করতে ডিজিটাল কম্পিউটার ০ (শূন্য) এবং ১ (এক) এই প্রতীক দুটি ব্যবহার করে।
(৩) ডিজিটাল কম্পিউটারের ফলাফল সরাসরি মনিটরে প্রদর্শিত হয় বা অন্য কোন আউটপুট ডিভাইসে প্রকাশিত হয়।
(৪) একটি কম্পিউটার দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা যায়।
(৫) কাজের সুক্ষতা অত্যান্ত বেশি (১০০%)।
উদাহরণঃ আমরা সাধারণত ডিজিটাল কম্পিউটারই বেশি ব্যবহার করে থাকি।

হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer)ঃ
এনালগ এবং ডিজিটাল উভয় কম্পিউটারের পদ্ধতির সমন্বয়ে তৈরি কম্পিউটার কে হাইব্রিড কম্পিউটার বলে।
বৈশিষ্ট্যঃ
(১) এনালগ এবং ডিজিটাল উভয় পদ্ধতির সমন্বয়ে তৈরি।
(২) ইনপুট এনালগ প্রকৃতির এবং আউটপুট ডিজিটাল প্রকৃতির।
উদাহরণঃ রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া মাপার যন্ত্র, শরীরের তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র। এছাড়াও পরমাণু শক্তি উৎপাদন প্লান জঙ্গি বিমান মহাকাশযান ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ইত্যাদি ক্ষেত্রে হাইব্রিড কম্পিউটারের ব্যবহার করা হয়।
আকার-আকৃতি, কর্মদক্ষতা, স্মৃতি ও সুযোগ ওপর ভিত্তি করে ডিজিটাল কম্পিউটারকে ৪ ভাগে ভাগ করা হয়।
(১) সুপার কম্পিউটার (Super Computer)
(২) মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer)
(৩) মিনি কম্পিউটার (Mini Computer)
(৪)মাইক্রো কম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটার (Micro Computer or Personal Computer)

সুপার কম্পিউটার (Super Computer)ঃ
আকার আকৃতি ও কাজকর্ম ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে অতি বড় কম্পিউটারকে সুপার কম্পিউটার বলা হয়। সুপার কম্পিউটার অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দ্রুতগতিতে কাজ করতে সক্ষম। কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে বিলিয়ন বিলিয়ন হিসাব করতে পারে। এই কম্পিউটারে একই সাথে ২০০ টার্মিনাল লাগানো যায় এবং ২০০ জন ইউজার কাজ করতে পারে।
সারা বিশ্বে সুপার কম্পিউটারের সংখ্যা খুব বেশি নয়। বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম সুপার কম্পিউটার হলো চীনের তিয়ানহে-২। সম্প্রতি ভারত পরম নামে সুপার কম্পিউটার আবিষ্কার করে সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ল্যাবে IBM RS/6000 মডেলের একটি সুপার কম্পিউটার আছে।
কয়েকটি সুপার কম্পিউটারের উদাহরণঃCRAY-1, CRAY X-MP, CYBER-205।

মেইনফ্রেম কম্পিউটার (Mainframe Computer)ঃ
সুপার কম্পিউটারের চেয়ে ছোট কিন্তু পার্সোনাল বা মাইক্রোকম্পিউটার নয় এমন কম্পিউটার কে মেইনফ্রেম কম্পিউটার বলে। এটি এমন একটি বড় কম্পিউটার বা ডাম্ব টার্মিনাল (Dumb Terminal) যার সঙ্গে অনেকগুলো ছোট কম্পিউটার যুক্ত করে একসঙ্গে অনেক কাজ করতে পারে।
ব্যাংক, বীমা, অর্থলোগ্নী প্রতিষ্ঠান, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তথ্য আদান-প্রদান সংরক্ষণ এবং জটিল ও সুক্ষ উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং বৈজ্ঞানিক কর্মতৎপরতা পরিচালনার জন্য এই কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়। বাংলাদেশে ১৯৬৪ সালে স্থাপিত IBM 1620 কম্পিউটারটি ছিল মেইনফ্রেম কম্পিউটার।
কয়েকটি মেইনফ্রেম কম্পিউটারের উদাহরণঃIBM 1620, IBM 4143, NCRN 8370।

মিনি কম্পিউটার (Mini Computer)ঃ
মেইন ফেম কম্পিউটারের চেয়ে আকারে ছোট কিন্তু পার্সোনাল কম্পিউটারের চেয়ে বড় কম্পিউটারকে মিনি কম্পিউটার বা মধ্যম সারির (Midrange Computer) কম্পিউটার বলে। এই কম্পিউটারে ছোট কম্পিউটার যুক্ত করে একসঙ্গে কিছু লোক কাজ করতে পারে। মেইনফ্রেম ও মিনি কম্পিউটার দিয়ে একই ধরনের কাজ করা যায়।
মিনি কম্পিউটার আকারে ছোট এবং কাজের ক্ষমতাও কম। সাধারণত ক্লিনিক, বড় গার্মেন্টস, হাসপাতাল, বহুজাতিক কোম্পানি তে মিনি কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়। এই কম্পিউটারে ১৪ টি টার্মিনাল যুক্ত করে একসাথে ১৪ জন ব্যক্তি কাজ করতে পারে।
মিনি কম্পিউটারের কয়েকটি উদাহরণঃPDP 11, NOVA 3, IBM 5/36।

মাইক্রো কম্পিউটার (Micro Computer)ঃ

মেইনফ্রেম বা মিনি কম্পিউটারের তুলনায় অনেক ছোট কম্পিউটারকে মাইক্রো কম্পিউটার বলে। এই কম্পিউটার ক্ষুদ্রাকার মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে তৈরি। সাধারণত একজন ব্যবহারকারী একাই একটি মাইক্রো কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন। এজন্য মাইক্রো কম্পিউটারকে পার্সোনাল কম্পিউটার (Personal Computer) বা সংক্ষেপে শুধু PC বলা হয়।
মাইক্রো কম্পিউটার হচ্ছে কারিগরি নাম এবং পার্সোনাল কম্পিউটার বা PC হচ্ছে চলতি নাম। মাইক্রোকম্পিউটার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে যেমন-ডেস্কটপ, ল্যাপটপ,নোট বুক, পামটপ, পিডিএ ওয়ার্ক স্টেশন ইত্যাদি।
মাইক্রো কম্পিউটারের কয়েকটি উদাহরণঃIBM PC, APPLE POWER PC।

মাইক্রোকম্পিউটার বা পার্সোনাল কম্পিউটারকে আবার কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়।যেমন-
(১) ডেস্কটপ (Desktop)
(২) ল্যাপটপ বা নোটবুক (Laptop or Notebook)
(৩) নেটবুক (Netbook)
(৪) ট্যাবলেট পিসি বা ট্যাব (Tablet PC or Tab)
(৫) হ্যান্ড হেল্ড বা পাম পিসি বা পাম্প (Handheld or Palm PC or Palmtop)

ডেস্কটপ (Desktop)ঃ
যে মাইক্রোকম্পিউটারকে ডেস্ক বা টেবিলের ওপর স্থাপন করে ব্যবহার করা যায় তাকে ডেস্কটপ কম্পিউটার বলে। এটি সহজে বহন করা যায় না। বাসা বাড়ি সহ অফিস আদালতে এই কম্পিউটারের ব্যবহার দেখা যায়।
ল্যাপটপ বা নোটবুক (Laptop or Notebook)ঃ
Lap শব্দের অর্থ কোল। অর্থাৎ কোলের ওপর স্থাপন করে ব্যবহার করা যায় এমন ছোট আকারের কম্পিউটারকে ল্যাপটপ কম্পিউটার বলে। ল্যাপটপ কম্পিউটারকে নোটবুক বা পাওয়ারবুক ও বলা হয়। ১৮৮১ সালে এপসম কোম্পানি সর্বপ্রথম ল্যাপটপ কম্পিউটার প্রবর্তন করে।
ল্যাপটপের সুবিধা সমূহঃ
(১) এটি ডেস্কটপ পিসির চেয়ে অনেক বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়।
(২) লোডশেডিং এর সময় ডেস্কটপ চালাতে হলে ইউপিএস (Uninterruptable Power Supply) ব্যবহারের প্রয়োজন হয় এবং তার ব্যাকআপ দেয়ার ক্ষমতা ১৫-৩০ মিনিট হয়ে থাকে। কিন্তু ল্যাপটপের সাথে ব্যাটারি সংযুক্ত থাকায় বিদ্যুৎ না থাকলেও ল্যাপটপকে মডেল ভেদে ২-৮ ঘন্টা চালানো যায়।
(৩) ল্যাপটপ ডেস্কটপ পিসির চেয়ে আকারে অনেক ছোট এবং হালকা। তাই সহজে বহনযোগ্য। ল্যাপটপ কম্পিউটার দেখতে ছোট ব্রিফকেসের মতো।
(৪) এতে মানুষের পরিবর্তে টাচপ্যাড থাকে।
ল্যাপটপের অসুবিধাঃ
(১) ডেস্কটপ পিসি একই স্থানে থাকে এবং নড়াচড়া করতে হয় না। তাই তার ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু ল্যাপটপ বহনযোগ্য তাই সহজে হাত থেকে পড়ে ভেঙে যেতে পারে।
(২) সাধারণ মানের ল্যাপটপের ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে ডেস্কটপ পিছিয়ে গুলোর চেয়ে অনেক কম হয়। তবে ডেস্কটপের সমান ক্ষমতা সম্পূর্ণ ল্যাপটপ এর দাম আকাশছোঁয়া। কাজেই দামের দিক বিবেচনা করলে ল্যাপটপের সমকক্ষ ডেস্কটপের দাম অনেক কম।
(৩) ডেস্কটপ এর ক্ষেত্রে কোন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেলে সহজেই বদলানো যায়। কিন্তু ল্যাপটপের খুচরা যন্ত্রাংশ পাওয়া যেমন কষ্টকর তেমনি তার দাম ও তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
নেটবুক (Netbook)ঃ
নোটবুক হচ্ছে পূর্ণ আকারের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ছোট কিবোর্ড এবং ফ্লিপ-আপ মনিটর সম্বলিত একপ্রকার মোবাইল কম্পিউটার। এটি আকারে ল্যাপটপের চেয়ে ছোট কিন্তু পাম টপ এর চেয়ে বড়।
বৈশিষ্ট্যঃ
(১) নেটবুকে সাধারণত আলট্রা লো পাওয়ার প্রসেসর ব্যবহৃত হয়।
যেমন-ইন্টেল এটম, এএমডি ফিউশন সি এন্ড ই সিরিজ।
(২) ব্যাটারির জীবনকাল ও ব্যাক আপ সময় ল্যাপটপ এর চেয়ে অপেক্ষাকৃত বেশি।
(৩) এদের মনিটর এবং কিবোর্ড আকারে ছোট হয়।
(৪) ল্যাপটপের চেয়ে এদের ওজন অনেক কম।
(৫) এতে কোন অপটিকাল ড্রাইভ থাকে না।
(৫) নেটবুকের দাম ল্যাপটপ এর চেয়ে তুলনামূলক কম।

ট্যাবলেট পিসি বা ট্যাব (Tablet PC or Tab)ঃ
এটি এমন এক ধরনের কম্পিউটার যা দেখতে ট্যাবলেট পিসি লেটার সাইজের প্লেট এর মত। যার স্ক্রিনে হাতের আঙ্গুলের স্পর্শ দ্বারা প্রয়োজনীয় নির্দেশ বার ডেটা প্রদান করা অথবা ডিজিটাল কলম দিয়ে লেখা বা ড্রইং করা যায়। ট্যাবলেট পিসিতে ভয়েস ইনপুট করার ব্যবস্থা থাকে যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী কথা বলার মাধ্যমে কম্পিউটারে নির্দেশ বা ডাটা ইনপুট করতে পারেন।
হ্যান্ড হেল্ড বা পাম পিসি বা পাম্প (Handheld or Palm PC or Palmtop)ঃ
Palm শব্দের অর্থ হাতের তালু। অর্থাৎ হাতের তালুর মধ্যে রেখে কাজ করা যায় এমন সাইজের কম্পিউটারকে পামটপ কম্পিউটার বা পাম পিসি বলা হয়। এটিকে পকেট পিসি বা পিডিএ (PDA= Personal Digital Assistant)ও বলা হয়। এ ধরনের কম্পিউটারের পেন ভিত্তিক ইনপুট ব্যবস্থা, হাতের লেখা সনাক্তকরণ ও ওয়ারলেস কমিউনিকেশন টুলস ব্যবহৃত হয়।

উপসংহারঃ

আজকের এই প্রবন্ধে আলোচিত কম্পিউটার কি, কম্পিউটারের প্রকারভেদ বা শ্রেণীবিভাগ বিষয়গুলো আপনাদের কাজে লাগবে। এবং জীবনের ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Timeline Treasures নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url