কম্পিউটার কি-কম্পিউটারের ইতিহাস এর বিবর্তন

কম্পিউটার (Computer) শব্দটি 'Compute' শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ গণনা করা বা to calculate। সুতরাং সাধারণভাবে কম্পিউটারকে একটি গণনাকারী যন্ত্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গাণিতিক কাজ সম্পাদন করতে পারে।

বস্তুত, কম্পিউটার আবিষ্কারের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি দ্রুতগতিসম্পন্ন গণনাকারী যন্ত্র তৈরি করা।

সূচিপত্রঃ- কম্পিউটার - কম্পিউটারের ইতিহাস এর বিবর্তন

অথচ, বর্তমানে কম্পিউটার দিয়ে সম্পাদিত ৮০% কাজ অ-গাণিতিক (non-mathematical) অথবা অ-সংখ্যাত্মক (non- numerical) ধরণের। সুতরাং, কম্পিউটারকে কেবল একটি গণনাকারী যন্ত্র হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা বলতে এর ৮০% কাজকে উপেক্ষা করার শামিল।
আরও সুস্পষ্টভাবে বলা যায় যে, কম্পিউটার হলো এমন একটি যন্ত্র যা ডাটা অপারেট করে। ডাটা যে কোন বিষয়ের উপর হতে পারে। যেমন- কম্পিউটারকে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হলে বিভিন্ন আবেদনকারীর জীবন বৃত্তান্ত (Blo Data) অথবা কম্পিউটারকে ফলাফল তৈরির কাজে ব্যবহার করা হলে বিভিন্ন শিক্ষার্থীর বিভিন্ন বিষয়ে প্রাপ্ত মার্কস অথবা কম্পিউটারকে এয়ার লাইন বা রেলওয়ে রিজার্ভেশনে ব্যবহার করা হলে বিভিন্ন যাত্রীর বিস্তারিত তথ্য (নাম, বয়স, লিঙ্গ ইত্যাদি) অথবা কম্পিউটারকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সমস্যা সমাধান কল্পে ব্যবহার করা হলে বিভিন্ন ধরণের সংখ্যা ইত্যাদি ডাটা হিসাবে বিবেচিত। সুতরাং, কম্পিউটারের ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে ডাটা বিভিন্ন ধরণের এবং আকৃতির হয়ে থাকে।

ডাটা প্রসেসিং

কম্পিউটার প্রয়োজনানুসারে ডাটা সংরক্ষণ করতে পারে, প্রসেস করতে পারে এবং সরবরাহ করতে পারে। বস্তুত, কম্পিউটার এত সাধারণভাবে ডাটা প্রসেস করে যে অনেকে একে ডাটা প্রসেসর (Data Processor) হিসাবেও আখ্যায়িত করেছেন। ডাটা প্রসেসর নামটি অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত কারণ বর্তমান কম্পিউটার কেবলমাত্র সাধারণভাবে ধর্তব্য গণনার কাজই সম্পাদন করে না ডাটা সংক্রান্ত অন্যান্য কাজও সম্পাদন করে।

যেমন- ডাটা প্রসেসর বিভিন্ন উৎস হতে ডাটা সংরক্ষণ করে, এগুলোকে মার্জ বা Merge (একত্রে মেশানো বা রাখার কাজ) করে, প্রয়োজনীয় ধারা অনুসারে সর্ট বা sort (ছোট থেকে বড় - Ascending বা বড় থেকে ছোট Descending এরকম ধারায় সাজানোর প্রক্রিয়া) করে এবং সবশেষে চাহিদামাফিক ধরণ অনুসারে ফলাফল প্রিন্ট করে । এই কাজগুলোর কোনটিই গাণিতিক কাজের সাথে সম্পর্কিত নয় যা গণনাকারী যন্ত্রের বৈশিষ্ট্যের স্বরূপ, কিন্তু কম্পিউটার প্রায়ই এ ধরণের কাজের সাথে সম্পর্কিত।

 কম্পিউটার ব্যবহার করে ডাটা প্রক্রিয়াকরণের কাজকে ডাটা প্রসেসিং বলে। ডাটা প্রসেসিং তিনটি বিষয় নিয়ে গঠিত; ইনপুটকৃত ডাটা সংগ্রহ করা, ডাটা প্রক্রিয়াকরণ করা এবং আউটপুট হিসাবে ফলাফল প্রদর্শন করা। ডাটা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে ফলাফল হিসেবে ব্যবহার উপযোগী সাজানো ও প্রক্রিয়াজাত তথ্য প্রকাশ করা হয়।
সুতরাং, ডাটা হলো কাঁচামাল (Raw Material) যা ডাটা প্রসেসিং-এ ইনপুট হিসাবে ব্যবহার করা হয় এবং তথা বা উপাত্ত (Information) হলো প্রক্রিয়াজাত ডাটা (Processed Data) যা ডাটা প্রসেসিং-এ আউটপুট হিসাবে পাওয়া যায়।
Input → CPU → Output

ডাটা গ্রহণ (নির্দেশনা) → ডাটা বিন্যস্তকরণ (নির্দেশনা অনুসারে) → ফলাফল (তথ্য)

কম্পিউটারের উন্নত বিবর্তনের ধারা আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমেই বলতে হয় কম্পিউটার আবিষ্কারের এমন সুনির্দিষ্ট কোন দিন তারিখ উল্লেখ নেই যেখান থেকে এর সৃষ্টির সূচনা শুরু হয়েছে বলা যাবে। তবে মানব সভ্যতার শুরুতে তথা প্রাচীন ও প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে গণনার কাজ সম্পাদনের জন্য মানুষ হাত-পায়ের আংগুল, পাথর, নুড়ি, কড়ি, ঝিনুক, দড়ির গিট, গুহার গায়ে বিশেষ চিহ্ন ইত্যাদি ব্যবহার করত। খ্রীষ্টপূর্ব ৪৫০/৫০০ অব্দে সহজ পদ্ধতিতে গণনায় ব্যবহার করার জন্য মানুষ এ্যাবাকাস নামক এক ধরণের যন্ত্র তৈরি করে নিয়েছিলো। কালক্রমে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও গবেষকদের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ, এই যন্ত্রের উৎকর্ষপই হলো আজকের কম্পিউটার।
কম্পিউটার - কম্পিউটারের ইতিহাস এর বিবর্তন
চিত্র- এ্যাবাকাস

কম্পিউটারের ইতিহাস এর বিবর্তন

১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে স্কটিশ গণিতবিদ জন নেপিয়ার অস্থি বা হাড় কিংবা বড় খোদাই করে এক ধরণের গণনা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছিলেন। যা নেপিয়ারের অস্থি নামে পরিচিত ছিলো।
কম্পিউটার - কম্পিউটারের ইতিহাস এর বিবর্তন
চিত্র- নেপিয়ার রড
১৬১৫ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের গণিতবিদ ও ধর্মযাজক উইলিয়াম অট্রেড আবিষ্কার করেন স্লাইডরুল। এর সাহায্যে অনেক দ্রুত যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগ করার কাজ সম্পাদন করা যেতো। ১৬৪২ খ্রিস্টাব্দে Blaise Pascal নামক একজন ফরাসী দার্শনিক ও গণিতবিদ একটি ডিজিটাল ক্যালকুলেটিং মেশিন আবিষ্কার করেন। যাকে "প্যাসকেলাইন" নামে অভিহিত করা হতো।
১৬৫৪ খ্রিস্টাব্দে Robert Bissakar নামক একজন ইংল্যান্ড আবিষ্কারক স্লাইডরুপ তৈরি করেন যা পরবর্তীতে আইজাক নিউটন কর্তৃক ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়।

১৬৭১ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির গণিত ও দর্শন শাস্ত্রের পণ্ডিত গটফ্রাইড লিবনিজ (Gottfried Leibniz) Millionaire নামক একটি ক্যালকুলেটিং মেশিন উদ্ভাবন করেন।

১৮২১ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ গিয়ার প্রযুক্তিভিত্তিক একটি স্বয়ংক্রিয়া গণনাযন্ত্রের পরিকল্পনা করেন। ১৮২২ থেকে ১৮২৭ খ্রিস্টাব্দে চার্লস ব্যাবেজ নামক একজন ইংরেজ গণিতবিদ লগারিদমিক হিসাবসহ গাণিতিক হিসাবের জন্য ডিফারেন্স ইঞ্জিন আবিষ্কারের চেষ্টা করেন।

আধুনিক কম্পিউটারের জনক

১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে অধ্যাপক চার্লস ব্যাবেজ বাষ্পীয় শক্তি ব্যবহার করে এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন" নামে অপর একটি মেকানিক্যাল কম্পিউটার তৈরির পরিকল্পনা করেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত এ গবেষনা চালিয়ে গিয়েছিলেন। যদিও ব্যাবেজ কাজটি সম্পন্ন করে যেতে পারেননি তথাপিও ব্যাবেজ তাঁর যন্ত্রে যেসব ব্যবস্থার পরিকল্পনা করেছিলেন তা পরবর্তী সময়ে (প্রায় একশত বছর পরএ) ব্যাবেজের পরিকল্পিত কম্পিউটারের সাংগঠনিক কাঠামোর সাথে আধুনিক যুগের কম্পিউটারের অনেক সাদৃশ্য বিদ্যমান ছিলো। অর্থাৎ ব্যাবেজের এ মেশিনের পরিকল্পনা আধুনিক কম্পিউটারের মূলনীতি হয়ে আছে। এ কারণেই চার্লস ব্যাবেজকে আধুনিক কম্পিউটারের জনক বলা হয়।

চার্লস ব্যাবেজ (Charles Babbage)

চার্লস ব্যাবেজ (১৭৯২-১৮৭১) ছিলেন ইংল্যান্ডের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন গণিত অধ্যাপক।

১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ গণিতবিদ জর্জ বুলি গণিত ও যুক্তির সাথে সুস্পষ্ট সম্পর্ক স্থাপন করেন। যা পরবর্তীতে কম্পিউটারের মৌলিক গণিতের সূত্রপাত ঘটায় ।

১৮৫৫ খ্রিস্টাব্দের পূর্ববর্তী সময়ের সকল আবিষ্কারের সমন্বয় ঘটিয়ে সুইডিশ বিজ্ঞানী জর্জ ওয়েজ অপর একটি ডিফারেন্স মেশিন আবিষ্কার করেন।

১৮৬৯ খ্রিস্টাব্দে টমাস আলভা এডিসন একটি ভোট ক্যালকুলেটিং যন্ত্র এবং একটি স্টক কোটেশন প্রিন্টিং ডিভাইস আবিষ্কার করেন।

১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে ফ্রাংক স্টেফেন বলডুইন একটি যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তৈরী করেন। যা চারটি মৌলিক গাণিতিক কাজের উপযুক্ত ছিলো।

১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে টমাস আলভা এডিসন ফনোগ্রাম নামক যন্ত্র আবিষ্কার করেন।

১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে ডাটা রেকর্ডিং এবং রেকর্ডকৃত ডাটা ক্যালকুলেশন করার জন্য Herman Hollerith প্রথম বিদ্যুৎ চালিত মেশিন আবিষ্কার করেন। যার নাম ছিলো Hollerith Machine।
আরো পড়ুনঃ 
১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের হেরম্যান হলেরিথ নামক একজন বিজ্ঞানী ডাটা প্রসেসের কাজ করার জন্য "সেন্সাস মেশিন" আবিষ্কার করেন। যা দিয়ে আনমতমারীর কাজ করা যেতো।

১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে টমাস আলভা এডিসন ফাইনোটোগ্রাফ নামক ক্যামেরা আবিষ্কার করেন।

১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে ড. হলোরিথ তাঁর উদ্ভাবিত যত্ন বাণিজ্যিকভাবে প্রচলনের জন্যে Tabulator Machine Company নামক একটি প্রতিষ্ঠান তৈরী করেন। যা পরবর্তী সময়ে অন্য অনেক কোম্পানির সাথে মিলিত হয়ে IBM কোম্পানী গঠ হয় ।
১৯০৪ খ্রিস্টাব্দের ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে হিসাবকার্য স্বয়ংক্রিয়করণের জন্য ব্যবহার করা হয় বস্ত্র শিল্পে পাঞ্চ কার্ড বা ছিদ্রযুক্ত কার্ড। ১৮০১ সালে জ্যাকুয়ার্ড (Jacquard) নামের ফ্রান্সের এক ব্যক্তি তাঁত বুননের সূতা নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাপড়ে ডিজাইন তৈরির জন্য জাকাতের ভাঁতা নামক একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেন। মূলতঃ পাঞ্চ কার্ড ধারণাটি প্রথম চার্লস ব্যাবেজই দিয়েছিলেন। এ সিস্টেমে কার্ডের মধ্যে ছিদ্র করে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। পরবর্তীতে পাঞ্চ কার্ডের এ ধারণার উপর ভিত্তি করে উচ্চারিত হয় কার্ড ছিদ্র করার জন্য একটি বিদ্যুৎ চালিত যন্ত্র।
কম্পিউটার - কম্পিউটারের ইতিহাস এর বিবর্তন
চিত্র- পাঞ্চ কার্ড
১৯১১ খ্রিস্টাব্দে IBM কোম্পানি কর্তৃক "কম্পিউটিং রেকর্ডিং কোং” প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন একে সংক্ষেপে সিটিআর নামে অভিহিত করা হতো।

১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে জর্জ স্টিরিটস ও জন আটানসফ নামক দু'জন আবিষ্কারক সম্মিলিতভাবে "কমপ্লেক্স ক্যালকুলেটর” নামে একটি উল্লেখযোগ্য ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন।

১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে হাওয়ার্ড আইকেন IBM কোম্পানির সহায়তায় Harvard Mark-1 নামক একটি বৃহৎ কম্পিউটার তৈরী করেন।

১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে Eckert John ও Mauchly নামে দুই অধ্যাপক তৈরি করেন আকারে বেশ বড় কম্পিউটার ENIAC (Electronic Numerical Integrator and Calculator)। এটাই হলো প্রথম সর্বসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী ডিজিটাল কম্পিউটার। উল্লেখ্য ১৯৪৬ খ্রীস্টাব্দে হাইড্রোজেন বোমার অভ্যন্তরে সংঘটিত ফিউশন ও পারমাণবিক বিক্রিয়ার বিচিত্র কলাকৌশল উদঘাটনে ব্যবহার করা হয়েছিল ENIAC কম্পিউটার। ENIAC কম্পিউটারের সাফল্যের পর EDVAC (Electronic Discrete Variable Automatic Computer) কম্পিউটার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে (EDVAC কম্পিউটারে সাফল্যের পর) Eckert Mauchly পেনসিলভিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করে, যুগ্মভাবে তাঁদের পূর্ব প্রতিষ্ঠিত Eckert Mauchly Computer Corporation নামক কোম্পানিতে কাজ শুরু করেন।
১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁরা মিসাইল নিয়ন্ত্রণ করার উপযোগী একটি কম্পিউটার উপহার দেন। এই কম্পিউটারটির নামকরণ করা হয়েছিল-BINAC (Binary Automatic Computer)। এতে ব্যবহার করা হয় বড় আকারের অভ্যন্তরীণ মেমোরী ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি অন্য যে কম্পিউটারের নাম পাওয়া যায়। তার নাম ছিল ACE (Automatic Computer Engine)। এই কম্পিউটারটির পরিকল্পনা করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি।

১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে অন্যান্য যে কম্পিউটারগুলো বাজারে বেড়িয়েছিল, সেগুলো হলো-আইবিএম ৬৫০, আইবিএম ৭০৪, আইবিএম ৭০৫, আইবিএম ৭০৯, মার্ক-২, মার্ক-৩ ইত্যাদি ।

১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে Mauchly Computer Corporation আবিষ্কার করে UNIVAC নামক কম্পিউটার।

১৯৫৩ খ্রীস্টাব্দে জে, লিওন এন্ড কোম্পানি পেরোল ও একাউন্টিং এর জন্য যে কম্পিউটার ব্যবহার করা শুরু করে, তার নাম ছিল LEO (Lyons Electronic Office)। এটি ছিল প্রথম ব্রিটিশ বাণিজ্যিক কম্পিউটার।

১৯৫৬ খ্রীস্টাব্দে টি-এক্স-ও মেইনফ্রেম এর উদ্ভাবন হয়।

১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে রবার্ট নয়েস ও জ্যাক কিলবি নামক দুজন প্রকৌশলী পৃথকভাবে IC (Integrated Circuit) তৈরি করেন। উল্লেখ্য একটি সিলিকন পাতের উপর অনেকগুলো ট্রানজিস্টর বসিয়ে একটি সমন্বিত বর্তনী সৃষ্টির কৌশলই হলো- আইসি প্রযুক্তি। এর সাথে থাকে প্রয়োজনীয় রেজিস্টার, ক্যাপাসিটার ইত্যাদি।

১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে আইবিএম ট্রানজিস্টর একটি কম্পিউটার বাজারে ছাড়ে। এর মডেল নম্বর ছিল ৭০৯০। এই সময় রেমিংটন-র‍্যান্ডের ইউনিভ্যাক-এর ট্র্যানজিস্টর নির্ভর কম্পিউটার ছাড়ালেও আইবিএম এর সাথে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি।

১৯৬০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ছিল মূলত পাঞ্চকার্ডের যুগ। এরপর সেই স্থান ধীরে ধীরে দখল করে নেয়-ইলেকট্রিক কম্পিউটার। হলেরিথের আইবিএম ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের দিকে পাক্সকার্ড মেশিনে বিদ্যুতের ব্যবহার করেছিলেন, মূলত তাঁর যন্ত্রের গিয়ার, পেনিয়াম ইত্যাদি চালনা করার জন্য। ফলে হাতে চালানোর চেয়ে এই যন্ত্র চালানো সহজ হয়েছিল বটে, কিন্তু তিনি যন্ত্রটিকে প্রকৃত ইলেকট্রনিক যন্ত্রে রূপ দিতে সক্ষম হননি।

১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে উল্লেখযোগ্য কম্পিউটারগুলো ছিল-আইবিএম ১৪০১, আইবিএম ১৬২০, আইবিএম ৭০৯৪, আরসিএ- ৩০১, ৫০১, এনসিআর-৩০০, জিই-২০০ ইত্যাদি।

১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে আইসি ব্যবহার করে আইবিএম প্রথম যে কম্পিউটার তৈরি করে, তার নাম ছিল সিস্টেম/৩৬০। এবং উক্ত খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আইবিএম বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে সিস্টেম/৩৬ সিরিজের কম্পিউটার তৈরি করে তা বাজারজাতকরণ করে।
১৯৬৫ খ্রীস্টাব্দে মহাকাশ যাত্রায় কম্পিউটারের প্রথম প্রয়োগ করা হয়। জেমিনি-৩ এ আইসি নির্ভর কম্পিউটার সার্থকভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল। এই সময়েই মিনি কম্পিউটারের প্রচলন শুরু হয়।
১৯৬৮ খ্রীস্টাব্দে সিডিসি-৬০০ নির্মিত হয়। এই সময়ের উল্লেখযোগ্য কম্পিউটারগুলি ছিল- আইবিএম ৩৯০, আইবিএম ৩৭০, জিই-৬০০ ইত্যাদি এরপর শুরু হয় কম্পিউটারের মাইক্রোপ্রসেসরের যুগ। মূলত পরবর্তীকালে কম্পিউটারের ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস মাইক্রোপ্রসেসরের ইতিহাসকে অনুসরণ করে মাত্র।

১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে ড. টেড হয় একটি একক সিলিকন চিপের উপর ভিত্তি করে একটি কম্পিউটার প্রসেসরের সকল উপদানকে এক সাথে মিলিত করেন। তার এই ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম বাণিজ্যিক মাইক্রোপ্রসেসর ইনটেল ৪০০৪ তৈরি করা হয়।

১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে Mits Altair 8800 নামক ডেস্কটপ পিসি আবিষ্কার করেন।

১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যিক ভাবে প্রথম মাইক্রোকম্পিউটার হচ্ছে এলটেয়ার ৮৮০। এটাকে পার্সোনাল কম্পিউটার বলা হয়।

১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে Steve Worniak and Steve Jobs এপেল-১ কম্পিউটার তৈরি করেন। যে কম্পিউটারের ছিল শুধু একটি এ্যাসেম্বল করা সার্কিট বোর্ড। এটা হচ্ছে Altair এর চেয়ে কম শক্তিশালী কম্পিউটার।
১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে উদ্ভাবিত হয় এপেল-২ নামক প্রথম পার্সোনাল কম্পিউটার। যে কম্পিউটার রঙিন গ্রাফিক্স আউটপুট দিতে সক্ষম হয়।

১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে ইনটেল ৮০৮৬ ধরণের মাইক্রো প্রসেসর কম্পিউটার বাজারে ছাড়ে।

১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দে ইনটেল ৮০৮৮ ধরণের মাইক্রোপ্রসেসর চালু করে যা Macintosh কম্পিউটারে ব্যবহার করা হয়।

১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে বেল ল্যাবরেটরীজ বেলম্যাক ৩২ আবিষ্কার করেন।

১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে ১২ই আগষ্ট আইবিএম কর্পোরেশন বাসা ও অফিসে ব্যবহার্য্য পার্সোনাল কম্পিউটার উদ্ভাবন করেন। যে কম্পিউটারে ব্যবহৃত হয় ইন্টেল কোম্পানীর মাইক্রোপ্রসেসর।

১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে ইন্টেল ১৬ বিটের মাইক্রোপ্রসেসর ৮০২৮৬ বাজারে ছেড়েছে।

১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে আত্মপ্রকাশ করে এ্যাপল ম্যাকিনটোশ কম্পিউটার। যে কম্পিউটার পয়েন্টিং যন্ত্র মাউস ও ইউজার ইন্টারফেস সমৃদ্ধ ছিল।

১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে ইন্টেল ৮০৩৮৬ প্রসেসর বাজারে ছাড়ে। (এটাকে ৩৮৬ বলা হয়) এটা হচ্ছে ৩২ বিট প্রসেসর।

১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে আইবিএম পরিবর্তনযোগ্য পিসি চালু করে, আইবিএম কর্তৃক প্রথম ল্যাপটপ কম্পিউটারে ও প্রথম ইন্টেল ভিত্তিক কম্পিউটারে ৩.৫ ইঞ্চি ফ্লোপি ডিস্ক ড্রাইত রয়েছে।

১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে আইবিএম ২০ মেগাহার্টজ ৮০৩৮৬ প্রসেসর পিএস/২ লাইনের কম্পিউটার তৈরি করে। এতে মাইক্রোচ্যানেল বাস অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে আইবিএম ও মাইক্রোসফট তাদের প্রথম বহুমূখী ডেস্কটপ অপারেটিং সিস্টেম ওএস/২, ১.০ সিস্টেম চালু করে এবং ইন্টেল বাজারে ছাড়ে অধিক শক্তিশালী ৮০৪৮৬ প্রসেসর।

১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে ইন্টেল প্রথম ১০ লাখ ট্রানজিস্টরের মাইক্রোপ্রসেসর চিপ ৮০৪৮৬ বাজারে ছাড়ে। এটা ৪৮৬ চিপ ৩৮৬ সিপিইউ ও একই চিপের উপর সমন্বিত করে ও একই চিপের উপর ম্যাথ মাইক্রোপ্রসেসর রাখা হয়।

১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে মাইক্রোসফট চার মাসের মধ্যে তাদের উইন্ডোজ ৩.০ এর মাধ্যমে ১০ লাখের ও বেশী কপি ছাপা হয়েছে । শব্দ ও গ্রাফিক্সের জন্য ন্যূনতম হার্ডওয়ার শক্তি নির্ধারন করে একটি মাল্টিমিডিয়া পিসি, স্পেসিফিকেশন নির্ধারণ করেছে । পিসির অংশসমূহ মাইক্রোসফ্‌ট মাল্টিমিডিয়া ডেভেলপারস কনফারেন্সে তা ঘোষনা করা হয়।

১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে এপল ব্যাটারী চালিত বহনযোগ্য পাওয়ার বুক কম্পিউটার চালু করেছে। এ্যাপল, আইবিএম ও মটোরলা কোম্পানী ডিস্ক ভিত্তিক ডিপস এর নকশা ও তা তৈরি করার জন্য একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে।

১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে মাইক্রোসফট উন্নত মেমোরি ব্যবস্থাপনা ও টু-টাইপ ফন্টস সহ উইন্ডোজ ৩.১ অপারেটিং পরিবেশকে প্রবেশ করায়। আইবিএম তাঁর থিকে প্যাড ল্যাপটপ কম্পিউটারের প্রবর্তন করে।

১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে মোজাইক (Mosaic) হচ্ছে এক ধরণের পয়েন্ট ক্লিক গ্রাফিক্যাল ওয়েব ব্রাউজার এটা সুপার কম্পিউটার এপ্লিকেশনের জন্য জাতীয় সেন্টারের উদ্ভাবন ঘটায়।

১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে এ্যাপল পাওয়ার পিসি চিপের উপর মাইক্রো কম্পিউটার ভিত্তিতে পাওয়ার ম্যাকিনটোস লাইন কাজ করে। এ সময়ে পাওয়ার পিসি (Personal Computer)-এর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয় ।

১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে ইন্টেল পেন্টিয়াম প্রো-মাইক্রোপ্রসেসর ছেড়ে দেয়। এ্যাপল ও আইবিএম কর্তৃক উদ্ভাবিত মোটরোলা পাওয়ার পিসি বাজারে ছাড়ে। পাশাপাশি বাজারজাত করা হয় পূর্ণাঙ্গ অপারেটিং সিস্টেম উইন্ডোজ ৯৫।

১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে ইন্টেল ২০০ মেগাহার্টজ পেন্টিয়াম প্রসেসর ঘোষনা করেন।

১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে মাইক্রোপ্রসেসরের মাল্টিমিডিয়ার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে ইনটেল পেনটিয়াম-২ ইন্টেল এমএসএক্স প্রযুক্তির কথা ঘোষনা করেন।

১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ৯৮ অপারেটিং সিষ্টেম প্রচলন শুরু হয় যাতে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার এবং ওয়েব ব্রাউজারের কপিসহ উন্নত ইন্টারনেট সম্পর্কিত ব্যবস্থা সৃষ্টি করে।

১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে ইন্টেল পেন্টিয়াম-৩ প্রসেসর চালু করে যাতে এক লক্ষ ট্রানজিস্টার রয়েছে এবং পাশাপাশি মাইক্রোসফট অফিস ২০০০ এর প্রচলন শুরু হয়।

২০০০ খ্রিস্টাব্দে বাজারে আসে ১.৪ গে.হা. গতির পেন্টিয়াম ফোর কম্পিউটার। অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে বাজারে আসে উইন্ডোজ ২০০০ এবং উইন্ডোজ এমই ভার্সন।

২০০১ খ্রিস্টাব্দে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এক্সপি অপারেটিং সিস্টেম চালু করে যাতে বাড়ীর কম্পিউটার ও ব্যবসায়ী ডেস্কটপের জন্য মাইক্রোসফট অফিসের এক্সপি সংস্কারও এতে প্রকাশ করা হয়।

২০০৬ খ্রিস্টাব্দে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে উইন্ডোজ ভিসতা-এর প্রচলন শুরু হয়।

২০১০ খ্রিস্টাব্দে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে বাজারে আসে উইন্ডোজ ৭.০ ভার্সন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Timeline Treasures নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url