বাংলাদেশে আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাব

আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষ করে বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক পরিবেশ পরিবর্তন, বর্তমান সময়ের অন্যতম আলোচিত বিষয়। আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ামকসমূহের সেক্টরভিত্তিক (যেমন- অভিবাসন, কৃষি, শিল্প, মৎস ইত্যাদি) স্থানীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে আজকের এই আর্টিকেলে।
আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব-বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু কেমন

আলোচ্য বিষয়ঃ

পরিবেশ কি

আমরা যে স্থানে বাস করি সে স্থান এবং তার পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে পরিবেশ বলে। বিজ্ঞানে পরিবেশ বলতে প্রাকৃতিক পরিবেশকে বুঝানো হয়ে থাকে।

পরিবেশের প্রকারভেদ

পরিবেশকে 'অনিয়ন্ত্রণযোগ্য' (Uncontrollable) এবং 'নিয়ন্ত্রণযোগ্য' (Controllable) এ দু'ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমটি হলো স্বাভাবিক (Natural) প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং দ্বিতীয়টি হলো কৃত্রিম (Artificial) পরিবেশ।

পরিবেশ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন-উত্তর

  • ১৮৯৬ সালে 'গ্রীন হাউজ' শব্দটি সর্বপ্রথম ব্যবহার করেন- সুইডিশ রসায়নবিদ সোভনটে আরহেনিয়াস।গ্রিন হাউজ ইফেক্ট- তাপকে আটকিয়ে রেখে তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
  • গ্রিন হাউজ ইফেক্ট এর জন্য মূলত দায়ী কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂) ও CFC, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন মনো অক্সাইড প্রভৃতি।
  • গ্রিন হাউজ ইফেক্টের ফলে সমুদ্রতলের উচ্চতা বেড়ে গিয়ে বাংলাদেশের নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে। সালফার ও নাইট্রোজেন অক্সাইডসমূহ বায়ুমন্ডলে সালফিউরিক এসিড ও নাইট্রিক এসিডে পরিণত হয়ে বৃষ্টির সঙ্গে ভূ-পৃষ্ঠে নেমে আসাকে এসিড বৃষ্টি বলে।
  • বিশ্বব্যাপী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে ব্রাজিলের রিওডিজেনিরোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলন ধরিত্রী সম্মেলন নামে পরিচিত।
  • পরিবেশ সংরক্ষণ করে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণে যে অর্থনীতি কাজ করে তাকে সবুজ অর্থনীতি বলে।
  • জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে- প্রাকৃতিক পরিবেশ।
  • পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সমুদ্রের নিচে মিটিংয়ের আয়োজন করে- মালদ্বীপ। সচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে হিমালয়ের পর্বতমালায় মন্ত্রীপরিষদের মিটিং করে বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলো নেপাল।
  • পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশে মোট ভূমির ২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
  • বাংলাদেশে মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও আছে মাত্র ১৭ ভাগ।
  • এসিড বৃষ্টির জন্য দায়ী মূলত সালফার ডাই অক্সাইড।
  • অতিবেগুনি রশ্মি আসে- সূর্য থেকে।
  • রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসারে থাকে ফ্রেয়ন নামক তরল।
  • বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরে ফাটলের জন্য দায়ী- ক্লোরো-ফ্লোরো-কার্বন (CFC)।
  • গাড়ির কালো ধোঁয়ায় থাকে- কার্বন মনোঅক্সাইড।
  • ডিজেল পোড়ালে উৎপন্ন হয়- সালফার ডাই অক্সাইড।
  • শব্দদূষণ মানুষের রক্তচাপ বৃদ্ধি করতে পারে।
  • ১০৫ ডিবি (ডেসিবেল) এর উপরে শব্দের তীব্রতা সৃষ্টি হলে তা মানুষকে বধির করতে পারে।
  • Green Peace- একটি পরিবেশ আন্দোলন গ্রুপ (নেদারল্যান্ড, ১৯৭১)।
  • IUCN- বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে কাজ করে (গ্লান্ড, সুইজারল্যান্ড, ১৯৪৮)।
  • বাপা = বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন; প্রতিষ্ঠিত হয়- ২০০০ খ্রিস্টাব্দে।
  • বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি বেলা (BELA) = Bangladesh Environmental Lawyers Association; প্রতিষ্ঠিত হয়- ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে
  • বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিবেশগত মান উন্নয়ন এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রশমনকল্পে প্রণীত আইন।)
  • পরিবেশ সংরক্ষণ নিরাপত্তা বিধিমালা করা হয়- ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে।
  • বাংলাদেশের পরিবেশ আদালত- ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে অবস্থিত।
  • বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পরিবেশ নীতি হয়- ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে।

বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু

উষ্ণতম ও শীতলতম
উষ্ণতম স্থান নাটোরের লালপুর
উষ্ণতম জেলা রাজশাহী
শীতলতম স্থান শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার।
শীতলতম জেলা সিলেট
সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত সিলেটের লালাখাল
সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত নাটোরের লালপুর
বাংলাদেশের শীতলতম মাস জানুয়ারি
  • বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর- ঢাকার আগারগাঁওয়ে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে।
  • বাংলাদেশের গড় তাপমাত্রা- ২৭.৮০, বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত- ২০৩ সে. মি.।
  • সবচেয়ে বড় দিন ও ছোট রাত্রি- ২১ জুন।
  • সবচেয়ে ছোট দিন ও বড় রাত্রি- ২২ ডিসেম্বর।
  • বাংলাদেশের উষ্ণতম মাস- এপ্রিল এবং শীতলতম মাস জানুয়ারি।
  • মোট বৃষ্টিপাতের পাঁচ ভাগের চারভাগ হয়- বর্ষাকালে।

আবহাওয়ার উপাদান সমুহ

  • বায়ুপ্রবাহ।
  • বায়ুরচাপ।
  • বায়ুরচাপ আদ্রতা।
  • তাপ।
  • বৃষ্টিপাত
  • জলবায়ুর নিয়ামক সমুহঃ
  • মৃত্তিকার গঠন বা বুনট।
  • পর্বতের অবস্থান।
  • উচ্চতা।
  • সমুদ্র থেকে দূরত্ব।
  • ভৃমির ঢাল।
  • বনভুমির অবস্থান।
  • সমুদ্রস্রোত।
  • বায়ুপ্রবাহ।
  • অক্ষাংশ।

বৃষ্টিপাত

  • বাংলাদেশে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত-২০৩ সেন্টিমিটার
  • বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গড় বৃষ্টিপাত-৩৮৮ সে.মি.
  • বর্ষাকালে বাংলাদেশে গড় বৃষ্টিপাত- ৩০৯ সে.মি.
  • বাংলাদেশে সর্বনিম্ন বৃষ্টিপাত- ১৫৪ সে.মি.
  • বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়- সিলেট অঞ্চলে।
  • বাংলাদেশে মোট বৃষ্টিপাতের এক-পঞ্চমাংশ হয় গ্রীষ্মকালে।
  • বাংলাদেশে মোট বৃষ্টিপাতের-চার-পঞ্চমাংশ হয় বর্ষাকালে
  • বর্ষাকালে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়- দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে।
  • শীতকালে বৃষ্টিপাত হয় না- ভূমির উপর দিয়ে আসা বায়ু শুষ্ক থাকার জন্য।
  • বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়- উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে।
  • মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশে- জুন থেকে অক্টোবর (জ্যৈষ্ঠ- কার্তিক) মাস পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।

বর্ষাকাল

  • সময়- জুন থেকে অক্টোবর; (জৈষ্ঠ-কার্তিক)।
  • বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা- ২৭° সেলসিয়াস।
  • এক বছরের মোট বৃষ্টিপাতের বর্ষাকালে হয়- প্রায় ৮০%।

শীতকাল

  • সময়- নভেম্বরের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি (কার্তিক-ফাল্গুন)।
  • বাংলাদেশে শীতলতম মাস- জানুয়ারি।
  • জানুয়ারি মাসের গড় তাপমাত্রা- ১৭.৭° সেলসিয়াস।
  • শীতকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে- ২৯° সেলসিয়াস।
  • শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকে- ১১° সেলসিয়াস।Pucce
  • শীতকালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ- ১০ সেন্টিমিটারের বেশি নয়।

সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

  • হয়েছিল- ১০ সেলসিয়াস
  • সময়- ১৯০৫ সাল
  • স্থান- দিনাজপুর
  • তবে, ৮ জানুয়ারি ২০১৮ সালে পঞ্চগড় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২.৬° সে.।

গ্রীষ্মকাল

  • সময়- মার্চ থেকে মে মাস (ফাল্গুন-জৈষ্ঠ্য)।
  • বাংলাদেশে উষ্ণতম মাস হলো- এপ্রিল মাস।
  • গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে- ৩৪° সেলসিয়াস।
  • গ্রীষ্মকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকে- ২১° সেলসিয়াস।
  • বাংলাদেশে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা থাকে- ২৬.৭০° সেলসিয়াস।
  • গ্রীষ্মকালে সূর্য কর্কটক্রান্তির উপর-লম্বভাবে কিরণ দেয়।
  • বাংলাদেশে মোট বার্ষিক বৃষ্টিপাতের- প্রায় ২০ ভাগ হয় গ্রীষ্মকালে।
  • গড় হিসেবে এপ্রিল মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে- ২৮০ সেলসিয়াস।

কালবৈশাখী ঝড়

  • কালবৈশাখী ঝড় হয়- প্রাক মৌসুমি বায়ু ঋতুতে কালবৈশাখী ঝড় হয়- বৈশাখ-জৈষ্ঠ মাসে।
[সূত্র: বাংলাপিডিয়া]
  • কালবৈশাখী ঝড় হয়- চৈত্র-বৈশাখ মাসে [সূত্র: ষষ্ঠ শ্রেণির সামাজিক বিজ্ঞান]

বাংলাদেশের তাপমাত্রা

  • বার্ষিক গড় তাপমাত্রা- ২৬.০১° সে.
  • গ্রীষ্মকালে গড় তাপমাত্রা- ২৭.৮° সে. বা ২৮° সে.
  • বর্ষাকালে গড় তাপমাত্রা- ২৭০ সে.
  • শীতকালে গড় তাপমাত্রা- ১৭.৭ সে.

বড় ও ছোট দিন-রাত
বড় দিন ছোট রাত ২১ জুন
ছোট দিন বড় রাত ২২ ডিসেম্বর
দিন রাত্রি সমান ২১ মার্চ, ২৩ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশের আবহাওয়া কেন্দ্র


  • বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ইংরেজি নাম- Bangladesh Meteorological Department (BMD)
  • বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন।
  • বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কেন্দ্র-২টি।
ক. Storm Warning Centre, Dhaka
খ. Meteorological and Geophysical Centre, Chittagong
SPARSO
SPARSO-এর পূর্ণরূপ Space Research and Remote Sensing Organization
SPARSO-গঠিত হয় ১৯৮০ সাল
SPARSO-প্রধান কার্যালয় আগারগাও, ঢাকা
SPARSO- যে মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র (৪টি)
বেতবুনিয়া রাঙ্গামাটি, ১৯৭৫ সাল
মহাখালী কেন্দ্র ঢাকা, ১৯৯৫ সাল
তালিবাবাদ কেন্দ্র গাজীপুর,১৯৮২ সাল
সিলেট কেন্দ্র সিলেট, ১৯৯৭ সাল

আবহাওয়া কেন্দ্র ও অফিসের সংখ্যা

  • বাংলাদেশ রাডার স্টেশন- ৫টি।
  • নদী বন্দরের জন্য সংকেত-৪টি।
  • বর্তমানে আবহাওয়া সতর্ক সংকেত- ১১টি।
  • বাংলাদেশ আবহাওয়া স্টেশন- ৩৫টি।
  • আবহাওয়া অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কেন্দ্র- ২টি (ঢাকা, চট্টগ্রাম)।
  • ভূ-কম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র- ৪টি (চট্টগ্রাম, ঢাকা, রংপুর ও সিলেট)।
  • বাংলাদেশ আবহাওয়া কেন্দ্র- ৪টি (ঢাকা, পতেঙ্গা, কক্সবাজার, খেপুপাড়া)।

গ্রিন হাউজ

  • গ্রিন হাউজ হল কাচনির্মিত এক ধরনের বিশেষ ঘর যা শীত প্রধান দেশে তীব্র ঠাণ্ডা থেকে গাছপালাকে রক্ষার জন্য কাঁচ বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি।
  • গ্রিন হাউজের অভ্যন্তরে সর্বদা গরম থাকে।
  • শীতকালেও গ্রিন হাউজ- উষ্ণ থাকে।
  • ছোট বাক্সের মত গ্রিন হাউজের ইংরেজি নাম- কোল্ডফ্রেম।

গ্রিন হাউজ ইফেক্ট

গ্রিন হাউজের মত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পৃথিবীকে এমন এক কাঁচের ঘরের মতো করে তুলেছে যার ফলে সূর্যের আলোর সাথে তাপ পৃথিবীতে এসে পৌঁছানোর পর তা আর ফিরে যেতে পারে না। আর তাই এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় গ্রিন হাউজ ইফেক্ট।

অভিবাসনে আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাব

  • আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাবে দুই ধরনের অভিবাসন হয়ে থাকে, যথা-
ক. দেশের অভ্যন্তরে
খ. দেশের বাহিরে।
  • এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে আবহাওয়া ও জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবের ফলে গত ৪০ বছরে ১২-১৭ মিলিয়ন জনগণ ভারতে অভিবাসিত হয়।
  • ২০০৪ সালের ঘূর্ণিঝড় নার্গিসের আঘাতে মায়ানমারে প্রায় ২.৪ মিলিয়ন জনগণ আক্রান্ত হয় এবং ৮ লাখ লোক ঘরছাড়া হয়।
  • বাংলাদেশের ব-দ্বীপ অঞ্চলের প্রায় ৮.৫ মিলিয়ন হেক্টর জমি কৃষি কাজের আওতাভুক্ত। সমুদ্র পৃষ্ঠের ২ মিটার উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য ৪৮৬ হাজার হেক্টর অঞ্চল প্লাবিত হবে।
  • ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের আঘাতে আক্রান্ত হয়-১৬ মিলিয়ন জনগণ; ৮৫,০০০ বাড়িঘর ধ্বংস হয়। ১.১২ মিলিয়ন হেক্টর আবাদি জমি ধ্বংস হয়।
  • সম্প্রতি আইলার আঘাতে ৩.৯ মিলিয়ন জনগণ আক্রান্ত হয় এবং খুলনা ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের প্রায় ৭৬,৪৭৮টি পরিবার স্থানান্তরিত হয়।
  • ঘূর্ণিঝড় হুদ হুদের নামকরণ করে- ওমান।
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০১৪ ফিলিপাইনে আঘাত হানা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের নাম- হাগুপিট।

কৃষিতে আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাব

  • বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে, ধানের ফুল আসার সময় থেকে বীজ বের হওয়ার মাঝখানের
  • সময়টুকুতে প্রয়োজনের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় T-আমন জাতের ধানের উৎপাদন কমে আসছে।
  • কম বৃষ্টির কারণে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার সমস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • তাপমাত্রা বাড়ার কারণে পানির বাষ্পীভবন বেড়ে যাচ্ছে এবং বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাবে।
  • বন্যা ও ক্ষরার কারণে শস্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ উভয়ই ব্যাহত হচ্ছে।
  • রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে সময়মতো বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রেশম চাষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
  • সেপ্টেম্বর অক্টোবর মাসের খরা, বোনা ও রোপা আমন ধানের উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং ডাল ও আলু চাষকে বিলম্বিত করে।
  • ১৯৬০ সালে বঙ্গীয় এলাকায় সর্বোচ্চ ৪২.৩° সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
  • আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় গত ৫০ বছরে দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ০.৫%।
  • ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের তাপমাত্রা গড়ে ১.৪° সেলসিয়াস এবং ২১০০ সাল নাগাদ ২.৪ সেলসিয়াস বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
  • ২০৩০ সাল নাগাদ বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত- ১০-১৫% এবং ২০৭৫ সাল নাগাদ- ৭৫% বেড়ে যাবে।
  • বরিশাল ও পটুয়াখালীতে লবণাক্ততার পরিমাণ ২ পিপিটি (লবণাক্ততা পরিমাপ মাত্রা) থেকে বেড়ে ৭ পিপিটি হয়ে গেছে।
  • চট্টগ্রাম শহর সন্নিকটের হালদা নদীর পানিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে ৮ পিপিটি হয়ে গেছে।

শিল্প ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাব

  • জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকরণ' সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে অন্যান্য ঝুঁকির সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত ঝুঁকির ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে শীর্ষে দেখানো হয়েছে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের শিল্প কারখানার অবকাঠামো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
  • প্রাকৃতিকভাবে কার্বণ চক্রের প্রভাবে ভূমিকম্প হয়ে থাকে। গত ২৫০ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ১০০টি ভূমিকম্প সংঘটিত হয়।
  • বাংলাদেশে ৮টি ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি এলাকা বা ফল্ট জোন সচল অবস্থায় রয়েছে এবং যে কোন সময় এই চ্যূতি বরাবর ভূমিকম্প সংঘটিত হতে পারে।
  • বুয়েটের গবেষকদের প্রস্তুতকৃত ভূ-কম্পন এলাকাভিত্তিক মানচিত্রে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৪৩% এলাকা ভূমিকম্পের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিতে, ৪১% এলাকা মধ্যম এবং ১৬% এলাকা নিম্ন ঝুঁকিতে রয়েছে।
  • বিএসএফআইসির নিয়ন্ত্রণাধীন ১৫টি চিনিকলের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ২.১০ লক্ষ মেট্রিক টন।
  • দেশে বর্তমানে চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ১৪.০০ লক্ষ মেট্রিক টন। আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে আঁখের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না ফলে চিনির বার্ষিক চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না।
  • আবহাওয়া ও জলবায়ুর নেতিবাচক প্রভাবে তাঁত ও রেশম শিল্প, বস্ত্র শিল্প, ইস্পাত শিল্প, চামড়া শিল্প ইত্যাদি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মৎস্য ক্ষেত্রে আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাব

  • বরফ যুগের পরে বৈশ্বিক উষ্ণতা ৩০ সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে ফলে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিসহ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
  • মাছ প্রায় ৩ বিলিয়ন মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
  • উন্নয়নশীল দেশের প্রায় ৫০০ মিলিয়ন জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের জীবিকার জন্য মৎস্য ও কৃষির উপর নির্ভরশীল।
  • Bangladesh Fisheries Development Corporation এর তথ্য মতে, গত দুই দশকে বাংলাদেশের বঙ্গপসাগরের এক্সক্লুসিভ ইকনোমিক জোনের (EEZ) মৎস্য সম্পদের পরিমাণ ২৫-৩০% হ্রাস পেয়েছে।
  • FAO এর ২০০৯ সালের তথ্য মতে, বঙ্গপসাগরে গত দুই দশকে ১০০ প্রজাতির মৎস্য প্রজাতি বিলুপ্ত হয়েছে- ৪৪.৪৪% মৎস্য খামার।
  • আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জার্মান ওয়াচ এর ২০১০ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের মধ্যে প্রথমেই অবস্থান করছে বাংলাদেশ।
  • অভ্যন্তরীণ মৎস্য আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে চতুর্থ স্থান অধিকারী দেশ। বাংলাদেশ বছরে ৩,০০০ কোটি টাকার মাছ রপ্তানি করে।
  • এদেশের জাতীয় আয়ের ৩.৭% এবং রপ্তানি আয়ের ৪.০৪% মৎস্য খাত হতে আসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৯-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার জন্য পানির তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে পানিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়। এতে প্রজননক্ষম মাছ অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং প্রজননে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
  • বাংলাদেশে প্রাপ্ত ২৬০ প্রজাতির মাছের মধ্যে ১৩০ প্রজাতির মাছই পাওয়া যায় হাওড়াঞ্চলে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাত কমে যাচ্ছে এবং একই সাথে কমে যাচ্ছে হাওড়াঞ্চলের পানির পরিমাণ।
  • দুটি জরিপ থেকে জানা গেছে হাকালুকি হাওরের ১০৭ প্রজাতির মাছের মধ্যে ৩২ প্রজাতিই হুমকির মুখে।
  • জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিল অঞ্চলে মৎস্য উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কোটি কোটি টাকার মৎস্য উৎপাদন কমে যাচ্ছে। মৎস্য আহরণ ও উৎপাদনের সাথে জড়িত প্রায় ৫০,০০০ লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাংলাদেশের উদ্যোগ

  • বাংলাদেশ বিশ্ব উষ্ণায়নের (Global Warming) জন্য কোনভাবেই দায়ী না হওয়া সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের এক নির্দোষ শিকার। এই বাস্তবতায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যার মধ্যে অন্যতম।
  • জলবায়ু পরিবর্তন তহবিলের প্রধান উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কৌশল ও এ্যাকশন ২০০৯ (Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan, 2009) এর বাস্তবায়ন।
  • বাংলাদেশ ১৯৯০ সালের ২ আগস্ট মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষর করে এবং প্রটোকলের লন্ডন, কোপেনহেগেন, মন্ট্রিল ও বেইজিং সংশোধনীসমূহ যথাক্রমে ১৯৯৪, ২০০০, ২০০১ ও ২০১০ সালে অনুমোদন করে।
  • বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর বায়ুমান মনিটরিং ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
  • বায়ুদূষণ মনিটরিং এর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের আওতায় ঢাকায় ৩টি, চট্টগ্রামে ২টিসহ গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশালে ১টি করে সারাদেশে মোট ১১টি সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ স্টেশন (ক্যামস-CAMS) চালু রয়েছে।
  • শিল্প প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ দূষণ এর মাত্রার সহনীয় পর্যায়ের মধ্যে আছে কি না তা নিশ্চিত হয়েই পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান করা হয় এবং এক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ অনুসরণ করা হয়।
  • জাতিসংঘ জীববৈচিত্র্য সনদের আওতায় গৃহীত কৌশলগত পরিকল্পনা ২০১১-২০২০ এর সাথে বাংলাদেশের জাতীয় জীববৈচিত্র্য কর্মকৌশলকে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও হালনাগাদ করে প্রণয়নের লক্ষ্যে ইমপ্লিমেন্টেশন অব ন্যাশনাল বায়োসেফটি ফ্রেমওয়ার্ক শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
  • জীববৈচিত্র্য আইন ২০১৩ এর খসড়া কেবিনেট কর্তৃক অনুমোদিত হয়ছিলো।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

Timeline Treasures নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url